প্রথমবারের মতো মুসলিম মেয়র পেতে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক সিটি

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫৫ পিএম

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হতে যাচ্ছেন একজন মুসলিম। কুইনপ্যাকের সর্বশেষ জরিপে উগান্ডার বংশোদ্ভূত আমেরিকান মুসলিম জোহরান মামদানি শতকরা ৪৬ সর্মথন পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউইয়র্কের সাবেক গর্ভণর এন্ড্রু কুমো (স্বতন্ত্র)  ৩৩  ও রিপাবলিকান পার্টির কার্টিজ সিলওয়া ১৫ ভাগ সর্মথন পেয়েছেন জরিপে। 

উল্লেখ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দলীয় প্রার্থী কার্টিজকে সর্মথন করেন নি। তিনি সর্মথন দিয়েছেন এন্ড্রু কুমোকে। তিনি বলেছেন, মুসলিম ও সোশালিস্ট মামদানি নির্বাচিত হলে নিউইয়র্ক সিটি নরকে পরিনত হবে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মামদানির বাবা উগান্ডার মুসলিম। মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু। নিউইয়র্কের প্রায় লক্ষাধিক বাংলদেশি সহ বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রান্ট মুসলমানরা মামদানির পেছনে একাট্টা। লন্ডনের মতো বড় শহরে মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হবার পর বিশ্বের বানিজ্যিক রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হতে যাচ্ছেন একজন মুসলমান। ইয়ং জেনারেশনের মধ্যে তার পক্ষে জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন আগামী ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানিকে সমর্থন জানিয়েছে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশেন-জেবিবিএ ও জামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটি সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। গত ৮ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় জেবিবিএ এর উদ্যোগে জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে মামদানির সর্মথনে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেবিবিএ’র সভাপতি গিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেবিবিএ’র পক্ষ থেকে মামদানিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি তার বক্তব্যে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সমর্থনকে ধন্যবাদ জানিয়ে সবাইকে নিয়ে সুন্দর সিটি গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। মামদানি বলেন, একজন মুসলিম মেয়রকে বিজয়ী করে ইতিহাস সৃষ্টি করার সময় এসেছে। কারণ একজন ভালো মুসলমান মানে একজন ভালো মানুষ। তিনি বলেন, আমরা এক সাথে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই, যেটা হতে পারে নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র। তিনি তার বক্তব্যে আবারো বাংলাদেশী আন্টিদের কথা স্মরণ করে বলেন এবার সময় এসেছে বাংলাদেশিদের মেয়র নির্বাচনে ভূমিকা রাখার। 

অনুষ্ঠানে জেবিবিএ’র প্রধান উপদেষ্টা শাহ নেওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান, ইমাম শামসী আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারন সম্পাদক মো. আলী, এটর্নি মঈন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফাতেমা গ্রুপের চেয়ারম্যান হাজী শামসুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টিবোর্ড সদস্য ও জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড মেম্বার আব্দুর রহিম হওলাদার, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম রুমি, ড্রাম-এর অর্গানাইজিং ডিরেক্টর কাজী ফৌজিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুন ভূইয়া, কামরুজ্জামান কামরুল, বিলাল চৌধুরী, রিয়েল এস্টেট ব্রোকার নাঈম আহমেদ, কর্ণফুলী হোম কেয়ার সার্ভিসেসের কর্ণধার মো. হাশেম, ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাসান, জেড আলম নবী, জেবিবিএ’র কর্মকর্তা হাসান জিলানী ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নুরুল আজিম বক্তব্য রাখেন।  

এদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কোমো জ্যাকসন হাইটসে মসজিদে গিয়ে বক্তব্য রাখেন মুসল্লীদের উদ্দেশে। ৩ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের প্রাক্কালে জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ স্ট্রিটে অবস্থিত দারুল হাদিয়া মসজিদে তাকে স্বাগত জানান ইমাম মুফতি সামাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফাহাদ সোলায়মান, ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ, ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম আজিজ। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত