জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে পার্বতীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নকলনবিশদের। ছাদ ও দেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল। মাঝেমধ্যেই খুলে পড়ে পলেস্তারা। সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মী ও সেবাগ্রহীতাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই কাজ করতে হচ্ছে। পলেস্তারা খুলে পড়ায় মূল্যবান দলিল ও বালাম বহি সংরক্ষণও করা যাচ্ছে না। অফিসের বেহাল অবস্থার কথা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
১৯৭২ সালে পার্বতীপুর শহরের আমিরগঞ্জে সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে অবস্থিত দ্বিতল ভবনটিতে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রতি সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতল ভবনে বসে কাজ করেন অফিস সহকারী, জেলা টিসি মহরা, সহকারী মহরা, পিয়ন, আয়া, নৈশপ্রহরীসহ ৪০ নকলনবিশ। অন্যদিকে জায়গার অভাবে রেলওয়ের জমিতে বসে ১০৪ দলিল লেখক তাদের কাজ সম্পাদন করেন। সাবরেজিস্ট্রি অফিসে আসা জমি বিক্রেতা ও ক্রেতাদের জন্য টয়লেট, বসার জায়গা ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও নেই। যদিও সাবরেজিস্ট্রি অফিসটি প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ দলিল রেজিস্ট্রি করে থাকে। এতে প্রতি মাসে সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে প্রায় ৫-৬ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে দিনাজপুর গণপূর্ত বিভাগ ভবনটিকে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করে। তারপর থেকে এখনো ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছে বহাল তবিয়তে।
পার্বতীপুর দলিল লেখক সমিতির কোষাধ্যক্ষ রেজানুল হক দুলু বলেন, ‘এখানে তো আর আগের মতো ছোটখাটো দলিল হয় না। সব উচ্চমূল্যের দলিল হচ্ছে। সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সবাই পরিত্যক্ত ভবনেই কাজ করছেন।’
পার্বতীপুর সাবরেজিস্ট্রার মুহাম্মদ মনছুর আলী বলেন, ‘একাধিকবার অফিসের অবস্থা যথাযথ কর্তৃপক্ষ হিসেবে দিনাজপুরের জেলা রেজিস্ট্রারকে অবহিত করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জমি রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিল্ডিংয়ের যে অবস্থা তাতে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’
দিনাজপুর জেলা সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ বলেন, ‘পার্বতীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণের মতো কোনো জমি না পাওয়ায় নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ৩০ শতকের মতো জমি সংস্থান করা গেলে, সাবরেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণের জন্য সরকার অর্থ ছাড় দেবে। সে ক্ষেত্রে যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি জমি দান করেন তাহলে আরও ভালো হয়।’
