আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের দেখানো হচ্ছে কালজয়ী নির্মাতা জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমাটি। প্রায় তিন বছরের চেষ্টা ও ছয় মাসের পরিশ্রমে ইংরেজি সাবটাইটেলসহ ‘টু-কে’ (স্বচ্ছ রেজ্যুলেশন) সংস্করণে সিনেমাটি দেখাচ্ছেন পরিবেশনা সংস্থা বঙ্গজ ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা তানিম মান্নান।
শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি সিডনিতে হয়টস ওয়েদারিল পার্কের হয়েটস সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি। দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশিদের দেখার সুবিধার্থে সিনেমাটিতে ব্যবহার করা হয় ইংরেজি সাব টাইটেল।
অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাগৃহে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫৫ বছর আগের একটি সিনেমা মুক্তি দেয়া প্রসঙ্গে তামিম মান্নান বলেন, গত ৮ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৩টি সিনেমা মুক্তি দিয়েছি। একদিন মনে হলো কমার্শিয়াল সিনেমা অনেক হয়েছে, যদি কালচারাল সিনেমা নিয়ে কাজ করা যায়।
মান্নান আরও বলেন, সিনেমাটি বিদেশে প্রদর্শনের জন্য প্রথমে জহির রায়হানের পরিবারের সাথে কথা বলি। অনুমতি পাচ্ছিলাম না। পরে লেখক ও চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরুর সাহায্যে জহির রায়হানের ছেলে অনল রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি বিনামূল্যেই ছবিটি প্রদর্শনের অনুমতি দেন। পুরনো ছবি হওয়ায় ভিডিওর বেশিরভাগই অস্পষ্ট ছিলো। তাই টুডি ফরম্যাটে রি-মাস্টার করে সিনেমাটি প্রদর্শন করি।
পরিবারিক কাহিনির মাঝে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তুলে ধরা ‘জীবন থেকে নেয়া’ ১৯৭০ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। আনিস ফিল্মস করপোরেশনের পরিবেশনায় এই সিনেমায় অভিনয় করেন রওশন জামিল, খান আতাউর রহমান, শওকত আকবর, রাজ্জাক, রোজী সামাদ, সুচন্দা প্রমূখ।
শুধু সিনেমাই নয়, এ সিনেমার গানগুলো এখনও জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’, ‘এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’, ‘কারার ওই লৌহকপাট’র মতো অসংখ্য কালজয়ী গান এ সিনেমার প্রাণ হিসেবে কাজ করেছে। সিনেমাটিতে সংগীত পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন কিংবদন্তি তারকা খান আতাউর রহমান। আগামী রোববার ২৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার ডুমারেস্ক স্ট্রিট সিনেমা হলে ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমার আরও দু’টি প্রদর্শনী রয়েছে।
নাট্যনির্মাতাদের ভোটযুদ্ধ আজ