যুদ্ধের ছায়ায় ফুটবল, ইউক্রেনের লিগ বাঁচিয়ে রাখার লড়াই 

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:৩৯ পিএম

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের তিন বছর পরও ইউক্রেনিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (ইউপিএল) বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে। ঘরোয়া ফুটবলে টিকে থাকার পাশাপাশি ক্লাবগুলোর লক্ষ্য উয়েফার প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়া, যা তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত করতে পারে। 

সাম্প্রতিক ইউপিএল ম্যাচে কোলোস কোভালিভকা ও চোরনোমোরেটস ওডেসার লড়াইয়ে যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের কিক-অফ করেন দিমিত্রো ওরেল, যিনি ফ্রন্টলাইনে দেশের জন্য লড়েছেন। এর ঠিক আগের দিনই সাবেক কোলোস যুবদল খেলোয়াড় মিকিতা কালিনের যুদ্ধে মৃত্যুর খবর আসে। 

ইউক্রেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আন্দ্রি শেভচেঙ্কো জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ের জন্য দুটি ভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে আপাতত প্রধান লক্ষ্য ফুটবল টিকিয়ে রাখা। 

দেশটির ফুটবল ক্লাবগুলো বড় আর্থিক চাপে রয়েছে। শাখতার দোনেৎস্কের সিইও সেরহি পালকিন বলেন, ‘আমাদের আয়ের প্রধান উৎস টিকিট বিক্রি, স্পনসরশিপ ও টিভি স্বত্ব, যা খুবই সামান্য। ক্লাবগুলোর মালিকরা ব্যক্তিগতভাবে বিনিয়োগ না করলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ত।’ 

শাখতার দোনেৎস্ক নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু প্রতিটি ইউরোপিয়ান ম্যাচ বিদেশে খেলতে হচ্ছে, যা ক্লান্তিকর ও ব্যয়সাপেক্ষ। 

কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও লিগ চালিয়ে নেওয়াটাই বড় জয় বলে মনে করেন কারপাটি লভিভের ডিফেন্ডার ডেনিস মিরোশনিচেঙ্কো। ‘যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও মানুষ ফুটবলের মাধ্যমে একটু স্বস্তি খুঁজে নেয়। আমাদের সমর্থকেরা অসাধারণ সাহসী, যারা কষ্টের মধ্যেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রেখেছে।’ 

বর্তমানে মাঠে দর্শকদের সীমিত প্রবেশাধিকার রয়েছে, যা ইউক্রেনীয় ফুটবলের টিকে থাকার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্দ্রি শেভচেঙ্কো উয়েফার কার্যনির্বাহী কমিটিতে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়ছেন, যা ইউক্রেনের ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। 

এদিকে, রাশিয়া তাদের ফুটবলকে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ফেরানোর চেষ্টা করছে। দখলকৃত ক্রিমিয়ার দুই ক্লাব সেভাস্তোপল ও রুবিন ইয়ালতা রাশিয়ার লিগে খেলছে, যা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।  তবে শেভচেঙ্কো ও ইউক্রেন ফুটবল ফেডারেশন নিশ্চিত করতে চায় যে, ফুটবল যেন যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আড়াল করার হাতিয়ার না হয়, বরং এটি হোক আশা ও পুনর্গঠনের প্রতীক। 

যুদ্ধ ও সংকটের মধ্যেও ইউক্রেনের ফুটবল এখনো টিকে আছে, যা শুধুই খেলাধুলার অংশ নয়, বরং প্রতিরোধ ও ঐক্যের প্রতীক। যতদিন যুদ্ধ চলবে, ততদিন ইউক্রেনের ফুটবলেও সেই সংগ্রামের ছাপ থাকবে। তবে ফুটবলারদের বিশ্বাস, খেলার মাঠে জয় মানে কেবল তিন পয়েন্ট নয়, বরং জাতির মনোবলের জয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত