বিগত নির্বাচনে ১৭ লাখ ভোটার কবর থেকে এসে ভোট দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন । তিনি বলেন, কবরবাসীও ভোট দিত। মৃত ভোটার আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। এর বাইরে ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ ভোটার হওয়ার বয়স হয়েছে অনেক আগে, কিন্তু তারা ভোটার হয়নি। আবার নতুন ভোটার যাদের আমরা চিহ্নিত করেছি সেখানেও ২০ লাখ ভোটার আছে। সব মিলিয়ে ৫৪ লাখ ভোটার যারা বাদ পড়ে যেত।
গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের ইটিআই ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন ডেমোক্রেসি আরএফইডির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমেদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, ইটিআই মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার না হতে পারে সে জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার কক্সবাজার গিয়ে নতুন একটা তথ্য পেলাম। অনেক বাংলাদেশি রিলিফের আশায় রোহিঙ্গা হয়ে গেছে। উখিয়া, টেকনাফে প্রচুর লোক চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছে। যখন আমাদের লোক ক্রস-ম্যাচিং করছে তখন কিন্তু আটকে যাচ্ছে । এরা এখন বাংলাদেশি হতে পারছে না। এসব জটিল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি। এই সংকট সমাধানে আমরা চেষ্টা করছি।
ভোটার তালিকা তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য প্রস্তুতি তারা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, সীমানা নির্ধারণের অনেকগুলো আবেদন ঝুলে আছে। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। এই আইন সংশোধন করার জন্য ইতিমধ্যে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই আইন সংশোধন না হলে সীমানা জটিলতা সমাধান করতে পারব না।
সিইসি আরও কিছু বিষয় সরকারের কাছে নির্বাচন কমিশন প্রস্তাব দেবে জানিয়ে বলেন, যদি সংস্কার কমিশন না হতো তাহলেও আমাদের এই কাজটা করত হতো। আমরা আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে সব রিফর্ম প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। মিনিমাম যে সংস্কারগুলো দরকার হবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেটুকু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যেখানে যেখানে কিছুটা সংশোধনের দরকার হবে, সেটা আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাব করব।
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আর সামনে জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম শেষ হবে আগামী জুন মাসে। জুনে নির্বাচন করা সম্ভব যদি ১৬-১৭ লাখ মৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া না হয় এবং নতুন ভোটারদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হয়।
অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচন করতে হলে দুই মাস আগে তফসিল দিতে হয়। যদি ডিসেম্বরে নির্বাচন হতে হয় তাহলে অক্টোবরে আমাকে তফসিল দিতে হবে।
বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ডিসেম্বর আসতে আসতে এই পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে এমন একটি নির্বাচনী পরিবেশ করা হবে যেখানে ভোট ছাড়া মানুষের আর কোনো চিন্তা থাকবে না।
