আ.লীগের নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির চার সদস্যকে নিয়োগে ক্ষোভ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০০ এএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ১৩ শিক্ষককে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে চারজন শিক্ষক ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণার কমিটিতে ছিলেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় ববির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে  ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, ববিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের  দোসরদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে তাদের এই নিয়োগ বাতিলের দাবি উঠেছে।

গত সোমবার ববি রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে আবাসিক হলগুলোতে ১৩ জনকে আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে বিজয় ২৪ হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ আশিক-ই-ইলাহী ২০২৩ সালে বিসিসি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা কমিটির ১২ নম্বর সদস্য ছিলেন। এছাড়া শেরে বাংলা হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মাদ সাকিবুল হাসান একই কমিটিতে ১৩ নম্বর সদস্য এবং তাপসী রাবেয়া বসরী হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুরাইয়া আক্তার ১৪ নম্বর সদস্য ছিলেন। কবি সুফিয়া কামাল হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আফরোজও ছিলেন ওই তালিকার ১৭ নম্বরে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন  সেরনিয়াবাতের পক্ষে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালাতে ববি শিক্ষকদের নিয়ে ১০ মে ২০২৩ সালে এ কমিটি করা হয়েছিল। এ চার শিক্ষকের নিয়োগের খবরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ববি শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন না করার বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়ে আসছি। যখন আমার ভাইদের ওপর গুলি চলছিল তখন যারা দায়িত্ব ছিলেন, তারাও কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের গণহত্যাকে সমর্থন জানিয়েছে। আমরা চাই না তারা আবার কোনো পদে আসুক। তাদের পদ দেওয়া মানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অপমানিত করা।’ শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন তারা অবশ্যই চাইবেন না আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সুবিধাভোগীরা আবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসুক। এ ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।

তবে ওই চার শিক্ষক ফ্যাসিস্টদের দোসর কি না সে বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ববি রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম। এ বিষয়ে জানতে ববি উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া তিনি রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত