সড়কে শৃঙ্খলা আনতে যেন ‘ডেভিল হান্ট’ না লাগে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে অপারেশন ডেভিল হান্টের মতো অভিযান যেন চালাতে না হয়, সে বিষয়ে বাস মালিকদের সতর্ক করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে, ক্রটিপূর্ণ বাস মেরামতে তারা সহজ শর্তে ঋণ দেবে। বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দেবে। তাই মে মাসের পর আর মেয়াদোত্তীর্ণ বাস সড়কে যেন না চলে, সেই অনুরোধ করছি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আসাদ গেটে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ব্যবস্থাপনায় ৫০টি নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালুর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এহছানুল হক বলেন, ‘জাহাঙ্গীর গেটের সামনে দিয়ে বাস যখন চলাচল করে, তখন চালানোর ধরন বদলে যায়। আর অন্য সময় বেপরোয়া গতিতে বাস চালায়। নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয় না। তাই আমি চাই সব সড়কেই নিয়মনীতি অনুসরণ করে বাস চালাতে হবে। সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে হলে ডেভিল হান্টের মতো অভিযান যেন করতে না হয়, তা মালিকদের বলতে চাই। এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা এসি বাসগুলো গাবতলী- সায়েন্সল্যাব-গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলবে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, ‘গণপরিবহন একটি শহরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন গণপরিবহনে সমস্যা ছিল। নানা রকমের ত্রুটি ছিল বাসগুলোতে। নতুন এ বাসগুলো যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও জনপ্রিয় হবে। এটা ব্যবহারে উৎসাহ পাবেন যাত্রীরা। তাতে গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়বে। যাত্রীরা টিকিট কেটে উঠুন। যাত্রীদের সঙ্গে শ্রমিকদের ভালো ব্যবহার করুন। মালিকরা বাস সময় মতো ছাড়বেন।

সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশাস বলেন, দেশের সড়কে শৃঙ্খলা আনতে না পারায় এক রকম প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘদিনের সড়ক নিয়ে বিরক্ত সবাই। সড়ক পরিবহন খাত সবচেয়ে বিশৃঙ্খল। তবে ছয় মাসের মধ্যে পরিবহন খাতে কোনো ধর্মঘট হয়নি। সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আনা দুরূহ কাজ। শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে নিয়ে সড়ক পরিবহনে পরিবর্তন দেখতে পারব বলে আমি মনে করি।

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত বছরের শেষদিকে নতুন করে কোম্পানির আওতায় বাস চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ডিটিসিএ। গত ডিসেম্বরে ডিটিসিএ জানায়, ঢাকার সবগুলো পরিবহনের বাস চলবে ৪২টি রুটে। একটি রুটে বাস পরিচালনা করবে একটি কোম্পানি। ৪২টি রুটকে গোলাপি, নীল, লাল, কমলা, সবুজ, বেগুনি, নর্থ, নর্থ ওয়েস্ট এবং সাউথÑ এই ৯টি গুচ্ছে ভাগ করা হয়েছে। ছয়টি রুটের বাস চলবে ঢাকা মহানগরে, তিনটি গুচ্ছের বাস চলবে শহরতলি রুটে। প্রতিটি গুচ্ছে চলাচলকারী বাসের আলাদা রঙ হবে, একটি গুচ্ছে একাধিক রুট থাকতে পারে।

ঢাকা নগর পরিবহনের রুটে কোম্পানির অধীনে বাস চালাতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আবেদন চাওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ২৫০টি আবেদন জমা পড়ে। যাদের সম্মিলিত বাসের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিআরটিসি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরওয়ার, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত