যুবদল নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীকে অপহরণের অভিযোগ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:৫৪ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে শামসুল হুদা রাকিব (৩৪) নামের এক কাতার প্রবাসীকে অপহরণ করে আটকে রেখে পিটিয়ে নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড যুবদলের এক সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে। পরে যৌথবাহিনী প্রায় এক ঘণ্টা পর অপহৃত প্রবাসীকে উদ্ধার করে।

বুধবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই দিন রাত ৯টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বসুরহাট বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. পারভেজ (৩৭) উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরুল ইসলামের ছেলে এবং একই ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। অপহৃত প্রবাসী ওই ওয়ার্ডের মো. শাহজাহানের ছেলে।

লিখিত অভিযোগ বলা হয়েছে, প্রবাসী রাকিব বুধবার বিকেলে কাতার থেকে দেশে ফিরেন। এরপর একই দিন রাত ৯টার দিকে ঢাকা থেকে বসুরহাট বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। সেখানে তার বাবা ও ছোট ভাই আগে থেকে তার অপেক্ষায় ছিল। সেখানে যুবদল নেতা পারভেজের নেতৃত্বে রিয়াদ, দুলাল ও লাবিবসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন বাসস্ট্যান্ডে প্রবাসী রাকিব ও তারা বাবা শাহজাহানকে (৫৯) বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে ৬ হাজার রিয়াল, ৯০ হাজার টাকা এবং ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। পরে রাকিবকে তারা বাসস্ট্যান্ড থেকে বন্দুক ঠেকিয়ে অপহরণ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবার তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে জানালে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে অপহৃত প্রবাসীকে উদ্ধার করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা পারভেজ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, বন্দুক ঠেকিয়ে অপহরণ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের কোনও ঘটনা ঘটেনি। রাকিবকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন লিটন বলেন, আমি ঢাকায় একটি দলীয় মিটিংয়ে আছি। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কর্মকার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এসআই মইনুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্ব শক্রতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। পলিটিক্যাল ক্লু আছে, আগে থেকে ঝামেলা, পারিবারিক মেটারও।

ওসি তদন্ত আরও বলেন, রাকিবের এক ভাই আগে পারভেজের মাকে মারছে। রাকিব বিদেশে থেকে আসছে শুনে বাসস্ট্যান্ডে তাকে মারধর করছে। ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাতো হাতাহাতি হইছে, কিল, ঘুষি মারছে আরকি। অভিযোগ দিয়েছে আমরা এখন অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত