জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত অনুষ্ঠান ঘিরে নিজেরাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে দলটি। শতাধিক ভলেন্টিয়ার নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘অ্যাকটিভ ফোর্স’। অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপন করা হয়েছে আর্চওয়ে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে সবাইকে। অ্যাকটিভ ফোর্সের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয় ও ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল অনুষ্ঠানস্থলে। অ্যাকটিভ ফোর্সের তৎপরতায় সুশৃঙ্খলভাবে বিশাল জনসমাগমের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় প্রশংসা করেছেন আগতরা।
আজ শুক্রবার বিকেলে সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশের গেইটের সামনে নতুন দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ তৈরি করা হয়। বাঁশ-কাঠের তৈরি মঞ্চের ব্যানারে লাগানো হয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে। আর সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশের গেইটের সামনের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে দুটি আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। সারা দেশ থেকে আগত নেতাকর্মীদের সেই আর্চওয়ে পার হয়েই অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে হচ্ছে আগতদের।
আর্চওয়ের দায়িত্বে থাকা রাহাত বলেন, শতাধিক ভলেন্টিয়ার নিয়ে আমাদের অ্যাকটিভ ফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি এই দুইটি আর্চওয়ে গেট ছাড়া, আমরা ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। পাশাপাশি সবাইকে তল্লাশি করা হচ্ছে। নারীদের তল্লাশির জন্য নারী ভলেন্টিয়ার রাখা হয়েছে। কারও ব্যাগে অপ্রয়োজনীয় কিছু থাকলে সেগুলো আমরা রেখে দিচ্ছি নিরাপত্তার স্বার্থে। বিশেষ করে সিগারেট ও দিয়াশলাইয়ের মতো জিনিসপত্র নিয়ে আমরা কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না।
তিনি আরও বলেন, এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় সন্দেহজনক কিছু আমাদের নজরে এলে, তাদের অবহিত করার জন্য। কিন্তু আমরা নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটার মতো কিছুই দেখিনি।
এদিকে প্রবেশ পথ ছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলের মাঝামাঝি স্থানে আরেকটি আর্চওয়ে দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনদেরও আশপাশে দেখা গেছে। অপরদিকে অ্যাকটিভ ফোর্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লা থেকে আসা সাজিবুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকটি দলেরই উচিত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অ্যাকটিভ কোর্সের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যে কাজটি অতীতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা করত, সেটি আয়োজকরা করছে। এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ঘটনাস্থলে কথা হয় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, নতুন দলটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে ডিএমপির পক্ষ থেকে ৩ স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা কাজ করছে। ট্রাফিক পুলিশও সড়কে যান চলাচল অব্যহত রাখতে কঠোর পরিশ্রম করছে। সবকিছু মিলিয়ে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলে ৪ প্লাটুন বিজিবি সকাল থেকেই মোতায়েন রয়েছে। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে, তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আশপাশে আরও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে।
অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন বাটলার
খালেদা জিয়ার মতো সাজল কিশোরী, জনতার ভিড়
মসজিদে মুসল্লি ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫