রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্বৃত্তমুক্ত করতে হলে সংস্কারগুলো করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, সংস্কারগুলো দ্রুত হওয়া দরকার, যাতে দ্রুত একটা নির্বাচন হতে পারে। যদি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হয় তাহলে পুনরায় স্বৈরাচারীরা পুনরুত্থান করতে পারে।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন এবং সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ’-এর দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “সংস্কারের বিষয়ে কমিটির উপলব্ধি হলো, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হয়, তাহলে নির্বাচন অঙ্গন পরিচ্ছন্ন করতে হবে। নির্বাচন অঙ্গনে যেসব অপরিচ্ছন্ন ব্যক্তি অতীতে নির্বাচিত হয়েছে, নির্বাচিত হয়ে পবিত্র অঙ্গন দখল করেছে, তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করতে হবে।”
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক অন্যায় হয় আঁতাতের ভিত্তিতে; অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায়। এ জন্য রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলে পরিবর্তন আনতে হবে; টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে, নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। এগুলো যদি তৈরি করতে না পারি, তাহলে এই ব্যবস্থা আবার স্বৈরাচার তৈরি করবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করার তাগিদ দিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সবার দাবি, এটা (আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি) হওয়া প্রয়োজন। দ্রব্যমূল্য অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। এগুলো নিয়ে গণমাধ্যমকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা যে সুপারিশ দিয়েছি, এগুলো যেন জনগণের কাছে পৌঁছায় এবং জনগণ যাতে উপলব্ধি করতে পারে যে এই সংস্কার হওয়া জরুরি, যাতে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হয়।’
সংগঠন হিসেবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিদেশি ফান্ড গ্রহণের অভিযোগটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুজন কোনো নিবন্ধিত সংগঠন নয়, সুজন কোনো বিদেশি সাহায্য নিতে পারে না। সুজন পরিচালিত হয় ব্যক্তি সহায়তায়। তারা এভাবে বিদেশ থেকে কারও টাকা নিতে পারে না। সুতরাং এটা শুধু ফেইক নিউজ নয়, ডিপ ফেইক নিউজ। এর মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। স্বৈরাচারের দোসররা আমাদের বিতর্কিত করার জন্য এসব করছে। এর মধ্যে সামান্যতম সত্যতা নেই।
