হাইকোর্টের রায় স্থগিত

প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগদানে বাধা নেই

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৫, ০৭:০৫ এএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ সাড়ে ৬ হাজার প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে আপিলের অনুমতি দেয়।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর গত বছরের ৩১ অক্টোবর ৬ হাজার ৫৩১ পরীক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ দেখিয়ে ফল প্রকাশ ও পরে তাদের নিয়োগ বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশিত হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ নিয়োগ বাতিল করে রায় দেয়। হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ২ মার্চ শুনানির জন্য ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানির পর্যায়ে আসে। এর আগে সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি অনুসরণের অভিযোগে নিয়োগ না পাওয়া ৩০ প্রার্থী হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। গত বছরের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল দেয়। রুলের রায়ে বলা হয়, নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে সিদ্ধান্ত (৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে) দিয়েছিলেন তা অনুসরণ করতে হবে।

আপিল বিভাগে অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ব্যারিস্টার মুনতাসীর উদ্দিন আহমেদ। সাড়ে ৬ হাজার নিয়োগপ্রার্থীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার, সালাউদ্দিন দোলন, রুহুল কুদ্দুস কাজল। ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতে বলেছি, ২০১৯ সালে নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী ইতিমধ্যে নিয়োগ হয়ে গেছে। যেহেতু নিয়োগটা একটা চলমান প্রক্রিয়া তাই নীতিমালা অনুযায়ী তা পরিচালিত হবে। আদালত আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করে আপিলের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে ছয় হাজার ৫০০ শিক্ষক যারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের যোগদানের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত