ফেনীর সোনাগাজীতে জনতার সহায়তায় গণধর্ষণ ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার হোসেন সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের ডাকবাংলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়ে। অভিযুক্ত সবুজ ওই ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের আব্দুর রব সওদাগর বাড়ির আব্দুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে এক তরুণী তার নিকটাত্মীয়ের সাথে রিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে এলাকার বখাটে সবুজের নেতৃত্বে ৫/৬ জন সন্ত্রাসী তাদের রিকশা গতিরোধ করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। এ সময় তরণী চিৎকার শুরু করলে সন্ত্রাসীরা তার সাথে থাকা আত্মীয়কে মারধর শুরু করলে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে সন্ত্রাসীরা তরুণীকে নির্জন স্থানে নিয়ে রাতভর গনধর্ষণ করে। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি গোপন রেখে তরুণীর পরিবার তাকে হাসপালাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতালে থাকার সময় ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হয়। একপর্যায়ে তরুণীর পরিবার মামলার করার উদ্যোগ নিলে এলাকার প্রভাবশালীরা ধর্ষণে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে দফারফা চেষ্টা করে।
স্থানীয়রা আরও জানান, পরে তরুণীর পরিবার ঘটনাটি থানায় অবহিত করলে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বায়েজিদ আখন্দ সোমবার বিকালে দ্রুত মামলা গ্রহণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মামলার পর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুর রহমান নেতৃত্ব পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় জেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম রাসেল ও ইউনিয়ন যুবদল নেতা শাহ আলম ধর্ষণের মূলহোতা দেলোয়ার হোসেন সবুজকে ঘেরাও করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এদিকে ধর্ষণে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপালি পোস্ট দেয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সস্পাদক ও মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বাদল অভিযুক্ত যুবদল নেতা দাবি করে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। একই সাথে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অপরদিকে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সস্পাদক দাউদুল ইসলাম মিনার অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। তিনি ফেসবুক পোষ্টে যুবলীগ কর্মী দাবি করেছেন।
তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সবুজসহ অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি রাজনীতিতে জড়িত। গত সরকারের সময়ে তারা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে মিলেমিশে থাকতেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে। জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অপরাধে। তাদের ভয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বায়েজিদ আখন্দ বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি অবহিত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত মামলা গ্রহণ করি। মূলহোতা সবুজকে গ্রেপ্তারের পর বাকিদের ধরতে রাতভর পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
ভুয়া সনদে চাকরি করছেন কুবি শিক্ষক!
শেখ হাসিনার দৃশ্যমান বিচার দেখতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি