রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জনসংযোগ দপ্তরে অনুসন্ধান কাম তথ্য কর্মকর্তা পদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে পরিচিত রাশেদুল ইসলামের নিয়োগের নেপথ্যে কয়েকজন সমন্বয়ক প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্যাম্পাসের কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলন ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছয়টি ছাত্রসংগঠনের নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন রাবি শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ফুয়াদ রাতুল, ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব আল শাহরিয়ার শুভ, ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রাকিব হোসেন, ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সিকদার ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শামিন ত্রিপুরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা রাকিব হোসেন বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে একত্রিত হয়েছি। রাশেদুল ইসলাম রাবির সমন্বয়কদের পৃষ্ঠপোষক। তিনি স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক। মেহেদী সজীব, ফাহিম রেজাসহ স্টুডেন্ট রাইটস, অ্যাসোসিয়েশনের আরও কয়েকজন সদস্য রাবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক প্যানেলে আছেন। আমাদের ধারণা, অতীতের আওয়ামী লীগের মতো মেহেদী সজীব, ফাহিম রেজাসহ কতিপয় সমন্বয়ক নিজেদের প্রভাব খাটিয়েছে এবং এই নিয়োগের পেছনে তারা জড়িত থাকতে পারে। স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।’
রাশেদুল ইসলামের নিয়োগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাবিরোধী ও দুই হাজার শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানির শামিল বলে মন্তব্য করেন রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু একটা গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের মালিকানা দাবি করে সমস্ত স্বপ্ন-চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল। তেমনি ৫ আগস্ট বা ৩৬ জুলাইয়ের পরও আমাদের স্বপ্ন ছিল সমতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলব। কিন্তু আমাদের স্বপ্নও আজ ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। তার এ নিয়োগ ২৪-এর অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাবিরোধী এবং দুই হাজার শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানির শামিল।’
এর আগে গত সোমবার ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে রাশেদুল ইসলামকে অ্যাডহক ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য অনুসন্ধান কাম তথ্য কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নিয়োগের বিষয়টি জানাজানির পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
