টানা চারদিন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় হয়েছে নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি। এই চারদিন নয়া স্প্যানিশ ফিটনেস ট্রেইনার জোসেফ পেলোর অধীনে নিজেদের ফিটনেসের পরীক্ষা দিয়েছেন ফুটবলাররা। দুর্ভাগ্য কেবল আরিফ হোসেনের। মোহামেডানের এই তরুণ উইঙ্গার প্রথমবার ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলের। তবে দুদিন ধরে কপালে ব্যান্ডেজ বেঁধে তাকে বসে থাকতে হচ্ছে পাশের ডাগআউটে। দুদিন আগে মজিবুর রহমান জনির সঙ্গে সংঘর্ষে কপালের অনেকটাই কেটে যাওয়ায় বেশ কটি সেলাইও দিতে হয়েছে। চোটটা গভীর, তবে আশা ছাড়ছেন না আরিফ। আজ তিনিও যে সৌদিগামী জাতীয় দলের সঙ্গী হচ্ছেন।
মঙ্গলবার ছিল কিংস অ্যারেনায় প্রস্তুতির শেষ দিন। আজ দুপুরে হাভিয়ের কাবরেরা সদলবলে ধরবেন সৌদি আরবের বিমান। সৌদির তায়েফে দুই সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প চলবে। সেখানে ৮ মার্চ সুদান জাতীয় দলের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা জানালেন কাবরেরা নিজেই। এর বাইরেও আরও দুটি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টার কথাও জানালেন। মঙ্গলবার দুপুরে টিম হোটেলে কোচের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের। ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতিটা যাতে ঠিকঠাক হয়, সেটা নিশ্চিত করতেই দেশ ছাড়ার আগে কোচের সঙ্গে পরামর্শ সেরে নিয়েছেন বাফুফে প্রধান।
সেই সভায় কী কথা হলো জানতে চাইলে কাবরেরা বলেন, ‘বাফুফে সভাপতি ও ন্যাশনাল টিমস কমিটির সদস্যরা এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সবাই ইতিবাচক ক্যাম্প নিয়ে। ক্যাম্পের বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা চলা, আপডেট থাকা সবসময়ই ভালো বিষয়। লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ প্রস্তুতি ম্যাচের বিষয়ে জানতে চাইলে স্প্যানিশ কোচ জানান, ‘প্রায় পাকাপাকি হয়ে গেছে আমাদের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার বিষয়টি। সুদানের সঙ্গে ৮ মার্চ একটা ম্যাচ খেলব। তবে আমি আরও দুটি ম্যাচ খেলতে চাই। ইতিমধ্যে একটা ম্যাচ খেলার বন্দোবস্ত হয়েছে, আশা করি আরও দুটিও হবে। সুদানের সঙ্গে একটার বেশি ম্যাচ খেলা সম্ভব নয়। আমি যদি ভুল না জেনে থাকি, ওরা ১০ মার্চে চলে যাবে সৌদি থেকে। সৌদি আরবের দ্বিতীয় বিভাগের দল তায়েফের সঙ্গে খেলার সম্ভাবনা আছে। সেটা হলেও ভালো হবে। আরেকটা ম্যাচ হতে পারে সুপার লিগে খেলা ম্যাকাওয়ের সঙ্গে। অনেকগুলো বিকল্পই আছে। দেখা যাক কী হয়।’
ঢাকায় চারদিনের ট্রেনিং নিয়েও ভীষণ সন্তুষ্ট কাবরেরা। বিশেষ করে উঁচু মানের একজন ফিটনেস ট্রেইনারের অধীনে শিষ্যরা অনেক পরিশ্রম করছে বলে জানান তিনি, ‘এখন পর্যন্ত চার সেশনের অনুশীলনের উন্নতি নিয়ে আমরা খুবই ইতিবাচক। সবাই বেশ প্রাণশক্তিতে ভরপুর, ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। নতুন ফিটনেস ট্রেইনার খুবই উঁচু মানের। সে খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেল নিয়ে, খেলোয়াড়দের যে মানসিকতা, তা নিয়ে ভীষণ খুশি। আমরাও ইতিবাচক। আমরা জানি শিলংয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮শ মিটার উচ্চতায় আমাদের খেলতে হবে। এ কারণে সৌদি আরবের তায়েফে আমাদের অনুশীলন করাটা ইতিবাচক হবে।’
এদিকে দলের অন্যতম মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হৃদয়কে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে ভারতের বিপক্ষে। যেহেতু দুজনই মধ্যমাঠের খেলোয়াড়, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা হামজা চৌধুরীর সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা আছে তার। হৃদয় অবশ্য অনেক বেশি শিখতে চাইছেন হামজার কাছ থেকে, ‘আপনারা সবাই জানেন, হামজা ভাই অনেক ভালো মানের খেলোয়াড়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা পরীক্ষিত একজন খেলোয়াড়। আমি মনে করি, তার সঙ্গে যদি খেলতে পারি, সেটা অনেক সৌভাগ্যের একটা বিষয়। আর আপনারা কম্বিনেশনের যে বিষয়টা বললেন, সে যদি দলের সঙ্গে যোগ দেয়, তাহলে ইনশাল্লাহ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।’
হৃদয় মনে করেন দলের মধ্যে চলছে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা। সেটা একাদশে সুযোগ পাওয়ার। হামজার মতো তারকার সঙ্গে খেলার সুযোগ নিতে দলের সবাই তাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি, ‘আমরা শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে এই ম্যাচটার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। আসলে দলে অনেক খেলোয়াড়। কোচ আসলে সিদ্ধান্ত নেবেন কে খেলবে, কে খেলবে না। আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি, কীভাবে ভালো করে সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়া যায়।’
