ফারাক্কা চুক্তি পর্যালোচনায় আজ জেআরসি বৈঠক

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৫, ০৬:৪২ এএম

গঙ্গা পনিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষে হচ্ছে আগামী বছরের ডিসেম্বরে। ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিটি পুনর্নবায়ন ও এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কলকাতায় আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার ফারাক্কায় গঙ্গার পানিপ্রবাহের বর্তমান অবস্থায় গত দুই দিন ধরে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ ও ভারতের কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও অন্য কর্মকর্তারা।

দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, যৌথ নদী কমিশনের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমিটির ৮৬তম এ বৈঠকে উভয় পক্ষ ফারাক্কা বাঁধ এলাকায় পরিচালিত জরিপের তথ্য সমন্বয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যৌথ নদী কমিশনের তত্ত্বাবধনে দুই দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো দুদেশই তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পেশ করবে। তার ভিত্তিতেই আগামী দিনে চুক্তির পুনর্নবায়নের আলোচনা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল গঙ্গার ভাটি এলাকায় পানির স্তর ও ফিডার খালগুলো পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ফারাক্কা বাঁধের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপান্ডেসহ ভারতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞরা। ফারাক্কা বাঁধের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপান্ডে এ ব্যাপারে ভারতীয় মিডিয়াকে জানান, পানিপ্রবাহের নানা বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং গঙ্গার পানির প্রবাহ নিয়ে তথ্য বিনিময় করেছি।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হোসেনের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক কারণেই প্রতি দশ দিনে গঙ্গার পানির স্তর হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। কলকাতার বৈঠকে এ সব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান শীতল সময়ে যৌথ নদী কমিশনের এই বৈঠককে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। দুই দেশের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে, গত বছরের ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিলে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ক গত ৫৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্বাভাবিক হয়। ঠিক তার আগে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম।

বলা হচ্ছে, গত সাত মাসে সীমান্ত হত্যা, সীমান্তে উত্তেজনা, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুদেশের মধ্যে শুধু দোষারোপই নয়, সীমান্তে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঘটনাও ঘটেছে। একাধিকবার দুই দেশের কূটনীতিককে সতর্ক করার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের আগস্ট থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারত ভ্রমণভিসাসহ অন্যান্য ভিসা বন্ধ করেছে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাসহ বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে স্বল্প আকারে ভিসা চালু করে দিল্লি। কিন্তু শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুদেশের সরকারের মধ্যে কোন আলোচনা হয়নি, সমাধানও আসেনি। এর মধ্যে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে। তাতেও কোনো পক্ষই আলোচনার টেবিলে বসেনি।

তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুদেশের সরকারের পক্ষ থেকেই ইতিবাচক মনোভাবের কথা বলা হচ্ছে। ফলে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা কাটার একটা ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। ধারণা করা হচ্ছে, গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সফর এবং সেখানে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের যুক্ত হওয়া এবং আলোচনা সবই ইতিবাচক। এখন বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষা।

 জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ফারাক্কায় গঙ্গায় পানির প্রবাহ ছিল ৬৮ হাজার কিউসেক। তবে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ভারত ও বাংলাদেশ গঙ্গা-পদ্মার পানিবণ্টন চুক্তিমতে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতি দশ দিনে ৩৫ হাজার কিউসেক ও ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা বলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি পযালোচনা এবং বাংলাদেশ ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৮৬তম বৈঠকে যোগ দিতে গত সোমবার কলকাতায় গেছে বাংলাদেশের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। প্রথম দিনই দলটি সেখান থেকে হাওড়া রেলস্টেশন, এরপর ট্রেনে চড়ে তারা পৌঁছান মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কায়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন ভারতের নদী কমিশনের সদস্যরাও। এদিন সন্ধ্যায় নিউ ফারাক্কা স্টেশনে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটিকে স্বাগত জানান ফরাক্কা বাঁধের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপাণ্ডে। ৫ দিনের সফর শেষে শনিবার কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় ফিরে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত