আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। রবিবার দুবাইতে ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। টানা তিন বছরে তিনটি আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসেও ধারাবাহিক ফাইনালিস্ট তারা। ২০১৩ সালে শিরোপা জিতলেও ২০১৭ সালে পাকিস্তানের কাছে হারতে হয়েছিল। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারার পর ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে তারা। এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা পুনরুদ্ধারে আত্মবিশ্বাসী ভারত।
এই মহারণের আগে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের ওপেনার শুবমান গিল জানালেন ফাইনাল নিয়ে তার অনুভূতি, দলের প্রস্তুতি ও নিজের ভূমিকার কথা।
ভারতের তরুণ ওপেনার শুবমান গিল নিজের দ্বিতীয় আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই রোমাঞ্চিত তিনি। সংবাদ সম্মেলনে শুবমান বলেন, 'আমি খুবই রোমাঞ্চিত। এটি আমার দ্বিতীয় আইসিসি ফাইনাল, তাই অবশ্যই খুবই এক্সাইটেড। গতবার আমরা পারিনি, এবার তা করতে চাই।'
বড় ম্যাচ মানেই বাড়তি চাপ। শুবমানের মতে, যে দল চাপ সামলাতে পারবে, তারাই ফাইনালে সফল হবে। তিনি বলেন, 'ফাইনালের চাপ অবশ্যই থাকে। তবে যারা সেই মুহূর্ত থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করতে পারে, তাদের জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অতীতে আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোর সাফল্য দেখেছি। তারা কখনোই ফাইনালকে আলাদা করে দেখেনি, বরং স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছে। ভালো দলগুলো সেটাই করে।'
বড় ম্যাচে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা বরাবরই বাড়তি সুবিধা পান বলে মনে করেন শুবমান। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, 'আমরা দেখেছি, গত ম্যাচে বিরাট কোহলি কেমন খেলেছেন। কারণ, তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলেছেন, অনেক ফাইনাল, সেমিফাইনাল খেলেছেন। যতবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, ততবারই শিখেছেন। তাই অভিজ্ঞতা বড় ম্যাচে অনেক কাজে আসে।'
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, লোকেশ রাহুল, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজাদের নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ শক্তিশালী। শুবমান মনে করেন, এটি তার খেলা অন্যতম সেরা ব্যাটিং ইউনিট। তিনি বলেন, 'ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এটি সেরা ব্যাটিং লাইনআপের একটি। রোহিত এবং বিরাট ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পড়েন। আমাদের মিডল অর্ডারে শ্রেয়াস, রাহুল, হার্দিক, জাদেজা— এত গভীরতা রয়েছে যে ওপরে ব্যাটসম্যানরা আরও স্বাধীনভাবে খেলতে পারে।'
ভারতের সহ-অধিনায়ক হিসেবে শুবমানের দায়িত্ব এবার আরও বেড়েছে। তরুণদের সামলানো ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বও তার কাঁধে। তিনি বলেন, 'একজন ব্যাটসম্যান বা ফিল্ডার হিসেবে দায়িত্ব তো থাকেই, তবে সহ-অধিনায়ক হিসেবে আমাকে দলীয় চিন্তা করতে হয়। তরুণ ক্রিকেটারদের সহায়তা করতে হয়, বিশেষ করে যখন তারা চাপের মধ্যে থাকে। কখনো কখনো চাপের কারণে সহজ বিষয়গুলো ভুলে যাই। আমার ভূমিকা হলো সেই পরিকল্পনাগুলো মনে করিয়ে দেওয়া।'
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরিকল্পনা নিয়ে শুবমান বলেন, 'গতবার আমরা তাদের বিপক্ষে প্রথম পাওয়ারপ্লেতে তিন উইকেট হারিয়েছিলাম, কিন্তু তারপরও লড়াই করেছিলাম। এবার আমাদের মনোযোগ থাকবে শুরুটা ভালো করা এবং ধাপে ধাপে ম্যাচ এগিয়ে নেওয়া।'
ফাইনালের উত্তেজনা তুঙ্গে। শুবমান গিলের মতে, ফাইনালে যারা স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবে, তারাই জিতবে। ভারত কি পারবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে? উত্তর মিলবে রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
ফাইনালে ভারতকেই এগিয়ে রাখছেন শোয়েব আখতার
ওয়ানডে ক্রিকেট মরে গেছে, মঈন আলী
ক্রিকেটারদের ব্যতিক্রমী শপথ পড়ালেন শান্ত