স্মরণসভায় বক্তারা

বিরল মানবিক গুণের অধিকারী ডা. শরিফুল ইসলাম

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলামকে ‘বিরল মানবিক গুণের অধিকারী’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় এবং জনকল্যাণে বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে এই চিকিৎসকের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শনিবার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে অনুষ্ঠিত এক স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিভেনটিভ অ্যান্ড স্যোসাল মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন ও পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি গত ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ ছেলে। তাকে ময়মনসিংহ শহরে পারিবারিক নিজস্ব কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, চিন্তা, জানা ও বোঝার ক্ষেত্রে এই চিকিৎসক ছিলেন সাধারণের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সবার জন্য তার দুয়ার খোলা ছিল। শিক্ষক হিসেবে তিনি বায়োস্ট্যাটিসটিক্স এর অনেক জটিল বিষয় অসামান্য দক্ষতার সাথে অত্যন্ত সহজ করে উপস্থাপন করতে পারতেন। দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গেলে সেটাই হবে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শরিফুল ইসলামের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, অধ্যাপক সৈয়দ শরিফুল ইসলাম যা বিশ্বাস করতেন, কর্মেও তার প্রতিফলন করে গেছেন। আমি নিজেও তার কাছ থেকে শিখেছি। বিএসএমএমইউর প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা তার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। তার সহযোগিতায় আমি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা সম্পন্ন করতে পেরেছি। 

স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক সৈয়দ শরিফুল ইসলাম ছিলেন সাদা মনের সুন্দর মানুষ। তিনি ছিলেন অমায়িক, নিরহংকার, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। তিনি চ্যারিটি ধরণের কাজ করতে পছন্দ করতেন। বিলুপ্ত প্রজাতির বিভিন্ন ধরণের গাছ রোপণ করে গেছেন। ফলের গাছ তিনি ভীষণ পছন্দ করতেন, কারণ এসব গাছ থেকে পাখি ও মানুষ যাতে করে ফল খেতে পারেন। 

বক্তারা আরও বলেন, দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে, বিশেষ করে গবেষণা ও থিসিসের উন্নয়নে তার অভাব পূরণ হওয়ার নয়। তিনি মানুষের সমালোচনার কথা চিন্তাও করতেন না। প্রভাব ও প্রতাপ এ ধরণের কোনো ভাবভঙ্গি তার জীবনে ছিল না। 

স্মরণসভায় ইমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রয়াতের বড় ভাই অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. শাহ আব্দুস সালাম, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. মো. আমিনুল ইসলাম, বিএসএমএমইউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। 

স্মরণসভা সঞ্চালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রিভেনটিভ অ্যান্ড স্যোসাল মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত