ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরেছে ৫৭৮ প্রাণ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৫, ০৬:৫৭ এএম

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ৫৭৮ জন, আহত ১ হাজার ৩২৭ জন। মাসের ২৮ দিনে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৯৬টি। আর সব চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঢাকা বিভাগে ২০৫টি। এতে নিহত হয়েছেন ১৯৮ জন। এরমধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৭ জন। আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা বরিশাল বিভাগে ৩৪টি। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা হয়েছে সকালে।

মোট নিহতের মধ্যে নারী ৭৩, শিশু ৮৭। সেই সঙ্গে ২৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২২৭ জন, যা মোট নিহতের ৩৯.২৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪০.৪৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১১৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৯.৭২ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮২ জন, অর্থাৎ ১৪.১৮ শতাংশ।

এই সময়ে ২টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত, ২ জন আহত হয়েছেন। ১৪টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২২৭ জন (৩৯.২৭%), বাসের যাত্রী ৩৩ জন (৫.৭০%), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ৫৬ জন (৯.৬৮%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ২২ জন (৩.৮০%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৯২ জন (১৫.৯১%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-টমটম-মাহিন্দ্র-এস্কেভেটর) ২০ জন (৩.৪৬%) এবং বাইসাইকেল-রিকশা আরোহী ১৪ জন (২.৪২%) নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২০৯টি (৩৫.০৬%) জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৮টি (৪৪.৯৬%) আঞ্চলিক সড়কে, ৭৩টি (১২.২৪%) গ্রামীণ সড়কে এবং ৪৬টি (৭.৭১%) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাসমূহের ধরন অনুযায়ী ১৪২টি (২৩.৮২%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৫৩টি (৪২.৪৪%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১২১টি (২০.৩০%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৬২টি (১০.৪০%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৮টি (৩.০২%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-তেলবাহী ট্যাংকার-মিকচার ট্রাক-রোলার-ডাম্পার-ভেকু মেশিন-এস্কেভেটর ৩১%, যাত্রীবাহী বাস ১৩.৯৬%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৩.৩০%, মোটরসাইকেল ২৬.৪৩%, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ১৪.৪৯%, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-করিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র-বোরাক-চান্দের গাড়ি) ৫.৭৫%, বাইসাইকেল-রিকশা ১.৭০% এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩.৪১%।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৯৩৮টি। (বাস ১৩১, ট্রাক ১৬৪, কাভার্ডভ্যান ২১, পিকআপ ৪২, ট্রাক্টর ১৫, ট্রলি ২০, লরি ৭, ড্রাম ট্রাক ৮, তেলবাহী ট্যাংকার ৫, মিকচার ট্রাক ৩, রোলার ১, ডাম্পার ৩, ভেকু মেশিন ১, এস্কেভেটর ১, মাইক্রোবাস ১৬, প্রাইভেটকার ৮, অ্যাম্বুলেন্স ৩, জিপ ৪, মোটরসাইকেল ২৪৮, থ্রি-হুইলার ১৩৬ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক-লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৫৪ (নসিমন-করিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র-বোরাক-চান্দের গাড়ি), বাইসাইকেল-রিকশা ১৬ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩১টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৪.১৯%, সকালে ২৮.৮৫%, দুপুরে ১৯.৬৩%, বিকালে ১৯.৯৬%, সন্ধ্যায় ৮.২২% এবং রাতে ১৯.১২%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩৪.৩৯%, প্রাণহানি ৩৪.২৫%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.২৩%, প্রাণহানি ১২.১১%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৮.১২%, প্রাণহানি ১৭.৮২%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.৮৯%, প্রাণহানি ৮.৬৫%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৭০%, প্রাণহানি ৫.৮৮%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৬%, প্রাণহানি ৬.৪০%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৩৮%, প্রাণহানি ৮.৩০% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৭.২১%, প্রাণহানি ৬.৫৭% ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২০৫টি দুর্ঘটনায় ১৯৮ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় ৪১টি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম মৌলভীবাজার জেলায়। এই জেলায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত