হিযবুত তাহরীরের আরও ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

২২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও উত্তরখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। শুক্রবারের ঘটনার পর পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হিযবুত তাহরীরে অন্তত ১৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার করাদের মধ্যে সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক সাইফুল ইসলামও রয়েছেন।

গতকাল গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হেলাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান নুর, তানিম সিকদার শিহাব ও আহমেদ নাসিফ করিম ওরফে কাব্য। গতকাল শনিবার ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সিটিটিসির একাধিক দল সমন্বিতভাবে এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া, তাদের কাছ থেকে সংগঠনের বিভিন্ন প্রচারপত্র ও ডিজিটাল উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে হিযবুত তাহরীরের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ১৭ জন আসামির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ জন আসামি করা হয়েছে।

গতকাল পল্টন থানার ওসি কাজী মো. নাসিরুল আমীন বলেন, সন্ত্রাস দমন আইন-২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩) অনুযায়ী পল্টন থানার এসআই রাসেল মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় শুক্রবার দিন ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল গ্রেপ্তারদের এই মামলায় আদালতে পাঠালে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘আমরা সমাবেশের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। হিযবুত তাহরীরের অনেক সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’ সংগঠনটির সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বেশ কয়েকটি মামলা করেছে পুলিশ।

এদিকে হিযবুত তাহরীরের ১৭ সদস্যের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভাঙচুর ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাতজন কারাগারে, সাতজন কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে, ব্যবসায়ী কবিরের প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও ৩ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কলাবাগান থানার আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সালমানসহ সাতজনকে কারাগারে, অন্য সাতজনকে শিশু হওয়ায় তাদের গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন সাইফুর রহমান রিয়েল খান, সাজিদুল ইসলাম তাহমিদ, শাহাদাত হোসেন, মীর ফাহাদ আহমেদ উৎস, ছাব্বির আহম্মেদ আবির এবং ফারহান। যাদের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন ইমন, পারভেজ হাওলাদার, হৃদয় হোসেন আকাশ, নাইম হাওলাদার, আরাফাত আহম্মেদ, রুবেল মিয়া এবং শেখ রাব্বি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজন শিশু ও সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত