অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সহকারী নিয়োগ

বিশেষ সহকারী আমিনুলের পদত্যাগ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৫, ০৬:৪৩ এএম

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি অর্থ উপদেষ্টাকে সহায়তা করবেন। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম গতকাল পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আনিসুজ্জামান চৌধুরী বর্তমানে ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড সাইকোলজি এবং অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স অ্যাকাডেমি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের স্কুল অব বিজনেসে একযোগে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক ও ব্যাংককে জাতিসংঘের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন এবং সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইংল্যান্ড (অস্ট্রেলিয়া) এবং ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা (কানাডা)-তেও অধ্যাপনা করেছেন।

আনিসুজ্জামান চৌধুরী জার্নাল অব দ্য এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা সম্পাদক (১৯৯৫-২০০৮) ছিলেন এবং বর্তমানে এর সম্পাদকীয় পরিষদের সহসম্পাদক হিসেবে যুক্ত আছেন। এ ছাড়া তিনি ইকোনমিক অ্যান্ড লেবার রিলেশনস রিভিউয়ের সম্পাদকীয় পরিষদেরও আছেন।

পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি এবং ম্যাক্রোডেভেলপমেন্টবিষয়ক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা করেছেন আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা থেকে পিএইচডি ও এমএ ডিগ্রি এবং বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত প্রায় সাত মাসে কয়েক দফায় উপদেষ্টা পরিষদে রদবদল ও নতুন নিয়োগ হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারে এখন উপদেষ্টা ২৩ জন।

অন্তর্বর্তী সরকারে এখন উপদেষ্টার পদমর্যাদায় একজন বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক), একজন বিশেষ দূত (আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত) এবং একজন হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ (রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত) রয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পাঁচজন বিশেষ সহকারী ছিলেন। সর্বশেষ গত বুধবার শেখ মইনউদ্দিনকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে বিশেষ সহকারী করা হয়েছে। অবশ্য এই পাঁচজনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম গতকাল পদত্যাগ করেছেন।

বিশেষ সহকারী আমিনুলের পদত্যাগ : প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম গতকাল সোমবার পদত্যাগ করেছেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বারবার তাগাদা দিচ্ছিল পদত্যাগ করতে। তাই আজ (গতকাল) দুপুর ২টার দিকে আমার পিএসের (ব্যক্তিগত সচিব) মাধ্যমে পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সচিবের কাছে পাঠিয়েছি।’

পদত্যাগ পত্রে আমিনুল পদত্যাগের কোনো কারণ উল্লেখ করেননি বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ‘তিনি (আমিনুল ইসলাম) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এটা জানি। কিন্তু কী করণে পদত্যাগ করছেন সেটা জানা নেই।’ তবে সরকারি একাধিক সূত্রমতে, মূলত সরকারই আমিনুল ইসলামকে ওই পদে আর দেখতে চাচ্ছিল না।

গত বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এম আমিনুল ইসলামসহ তিনজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেন।

আমিনুল ইসলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। তার আগে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

এরপর সাত মাসে উপদেষ্টা পরিষদে কয়েক দফা পরিবর্তন এসেছে, যোগ হয়েছে নতুন মুখ। প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারে এখন উপদেষ্টা ২৩ জন।

সর্বশেষ গত বুধবার উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এত দিন শিক্ষা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এখন কেবল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে গত নভেম্বরে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনজনকে বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই তিন বিশেষ সহকারী স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের সহযোগিতা করছেন। এই তিনজনের মধ্যে শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত