মির্জা আব্বাস বললেন

অনেকে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৫, ০৬:৪০ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমাকে অনেকে প্রশ্ন করে, ভাই নির্বাচন কি হবে? আমি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বলি, আমি আশাবাদী নির্বাচন হবে। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি ভাবি, অনেকে নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাসাবোর মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সবুজবাগ থানার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থাপিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্তি শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা তো বারবার বলেছি, নির্বাচন হলে আমাদের মাঠে থাকতে হবে। আমরা মাঠে থাকব। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা সরকারে যাব। জনগণ যদি আমাদের ভোট না দেয়, যাকে দেবে তাকে আমরা মেনে নেব। কথা পরিষ্কার, আমরা জোর করে রাতের আঁধারে নির্বাচন করে ভোট নিতে চাই না। আমরা আর দিনের বেলা মানুষের ভোটের অধিকার হরণ দেখতে চাই না। সরকারকে অনুরোধ জানাব, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন দিন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের যে ৩১ দফা হয়েছে, এটা কিন্তু আড়াই বছর আগে তারেক রহমান সাহেব এবং তার অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এই ৩১ দফা প্রণয়নে অনেক সময় লেগেছে, ৬২টি রাজনৈতিক দল এতে মতামত দিয়েছে, তাদের মতামত সন্নিবেশিত করে দেশের জনগণের জন্য যেটা প্রয়োজন, সেটা এখানে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। আজকে সরকার সংস্কার সংস্কার বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে। কিন্তু সংস্কার কি হয়েছে, সেটা আমি এখনো দেখিনি। আমার নজরে আসেনি, আপনাদের নজরে আসছে কি না, জানি না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন এখানে থাকা পোস্টারের মধ্যে ১১ দফায় আছে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন। যদি সরকার আমাদের ৩১ দফা নিয়ে কাজ শুরু করত, তাহলে কখনোই সংস্কার সংস্কার করে মুখে ফেনা তুলতে হতো না। আজকে যারা সংস্কারের জন্য মাঠে নেমেছেন, তারা অত্যন্ত জ্ঞানী-গুণী-বুদ্ধিমান। আমি তাদের সবাইকে সম্মান করি, কিন্তু সম্মানের সঙ্গে এটাও বলতে চাই, আপনাদের সঙ্গে তো এ দেশের মাটি ও মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই, ছিলো না। আপনি হঠাৎ করে এসে কীভাবে বুঝবেন এ দেশের মানুষ কী চায়? কীভাবে বুঝবেন মানুষের মনের কথা? ১৭ বছর আমরা রাস্তায় আন্দোলন করেছি, ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা যে কষ্ট সহ্য করেছেন, সেটা কীভাবে অনুভব করবেন? আমাদের মনে ব্যথা ও কষ্ট আপনারা কখনোই বুঝতে পারবেন না। তাই সংস্কার সংস্কার করে সময় নষ্ট করবেন না। যথাসম্ভব শিগগিরই নির্বাচন দিন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের অনেক ভাই আছেন যারা ইউটিউবে অনেক কথা বলেন। মাঝে মাঝে আমার নজরে পড়ে, তাদের মনে হয় নির্বাচনের কথা শুনলে মাথাটা খারাপ হয়ে যায়। কিছু রাজনৈতিক দলও নির্বাচন শুনলে মাথা খারাপ হয়ে যায়, কারণ তারা কখনো নির্বাচন করবেন না, করেও নাই। নির্বাচন একটি দেশের মানুষকে স্থিরতা দিতে পারে, নির্বাচন একটি দেশকে স্থিতিশীল করতে পারে, এ দেশের মানুষের অস্থিরতা কমাতে পারে। কিন্তু তারা এসব বিষয় বুঝতে চায় না। তারা শুধু বলে, বিএনপি শুধু নির্বাচন চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি কঠিন ভাষায় বলতে চাই না, রোজার দিন, তবে কঠিন ভাষায় বললে বলতাম, আমরা ১৭ বছর জেল খেটেছি, পাঁচ হাজার লোক প্রাণ দিয়েছে, ৩০ হাজার লোক পঙ্গু হয়েছে, শুধু বাতাস খাওয়ার জন্য। এই ত্যাগ হয়েছে নির্বাচনের জন্য, কথা বলার জন্য, অধিকারের জন্য। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, নির্বাচন ছাড়া এই সরকার টিকে থাকতে পারবে না। এই সরকার বলুক, নির্বাচনের দরকার নেই, আমরাই ক্ষমতায় থাকব, দেখি বুকের পাটা আছে কি না, সাহস আছে কি না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হ্যাঁ, ভয় আছে। কিছু রাজনৈতিক দলের, নতুন রাজনৈতিক দলের, অনেক পুরনো রাজনৈতিক দলের ভয় আছে। তারা নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। আর আমরা তো বারবার বলেছি, নির্বাচন হলে আমাদের মাঠে থাকতে হবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা সরকারে যাব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় ভালো কিছু লিখতে চায় না। আবার কিছু পত্রিকা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিয়ে অনেক ভালো লেখে। বিএনপি এ দেশের মাটি ও মানুষের দল। এই দলকে অনেকের মানতে কষ্ট হয়।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “কালকে দেখলাম, বাংলাদেশের একজন শ্রদ্ধেয় আলেম ফেসবুকে বিএনপির বিষয়ে উদ্ভট কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির সময়ে অনেক ভবন হয়েছে এবং চাঁদাবাজি লুটপাট করা হয়েছে।’ আমি অবাক হই, একজন আলেম লোক, উনি বরাবর আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, ওই সময়ে যারা বিএনপি সম্পর্কে বাজে কথা বলেছিলেন, তারা সবাই মিলে বিএনপিকে কলুষিত করার চেষ্টা করেছিলেন। আপনারা তো নিজেরাই বলেন, গিবত ছড়ানো পাপ, রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা পাপ। তাহলে কেন এই কথাটা বললেন?”

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় এই কর্মশালায় মহানগর দক্ষিণের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত