পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের লোডিং ও আনলোডিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে ৫০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রিজ ক্রেন। রাশিয়ার এই ক্রেনটি বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে সে দেশের নাভাসিবিয়েরস্ক সমুদ্রবন্দরে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া আরও ১৬ টন ও ৩২ টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি গেনটি ক্রেনও একই সঙ্গে শিপমেন্ট করা হচ্ছে বলে গতকাল সোমবার নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু সংস্থা রসাটম।
কর্মকর্তারা বলছেন, রসাটম প্রকৌশল শাখা এবং ভিপিও যায়েস এর বিশেষজ্ঞরা শিপমেন্টের পূর্বে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগুলোর সার্বিক মান এবং নিরাপত্তা মান নিরীক্ষণ করেছে।
এতমএনার্গোরিমন্টের উপ-মহাপরিচালক ভøাদিমির পাপো বলেন, “আমরা উচ্চমান এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রূপপুর প্রকল্পের জন্য ইকুইপমেন্ট সরবরাহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রকল্পগুলোতে জটিল কার্যসম্পাদনে আমাদের সক্ষমতারই পরিচয় বহন করে।
রসাটমের বিদ্যুৎ শক্তি শাখার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রসএনার্গোএটমের একটি বিভাগ হলো এতমএনার্গোরিমন্ট। এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হলো রুশ পরমাণু শিল্প ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেন্যান্স। জেনারেল কনট্রাক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য এনার্জি প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের কাজ করে থাকে।
২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করা হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। রাশিয়ার আর্ধিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ২ ইউনিট মিলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম।
২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান তুলে দেয় রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনার স্বীকৃতি পায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৩৩তম সদস্য হিসেবে পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।
প্রতিটি ইউনিটে স্থাপিত হয়েছে ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর রিয়্যাক্টর। যত শিগগির সম্ভব জ্বালানি লোডিং এবং তৎপরবর্তী স্টার্টআপের জন্য প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।
দুই দফা সময়সীমা পিছিয়ে চলতি বছর প্রথম ইউনিট এবং আগামী বছরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রূপপুরে বর্তমান কেন্দ্রের পাশেই একই সক্ষমতার আরও দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে। এটি হলে ওই দুই ইউনিটের নির্মাণ ব্যয় আগের চেয়ে অনেক কমে যাবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
