বরগুনায় মাজারে হামলা চালিয়ে আগুন, আহত ২০

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৫, ০৬:৩৩ এএম

বরগুনার আমতলীতে ইসমাইল শাহ মাজারে বার্ষিক ওরস চলাকালে মাজার ভেঙে আগুন দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাত  সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ১৮ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েক জনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনে মাজারের  ভেতরের সামিয়ানা ও দুইটি বৈঠকখানা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।  প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

জানা যায়, আমতলী পৌর শহরের বটতলা এলাকায় ১৯৯৬ সালে ইসমাইল শাহর মাজার স্থাপন করা হয়। ওই সময় থেকে মাজার কর্তৃপক্ষ দুই দিনব্যাপী ওরস উদযাপন করে আসছে। ২৮তম ওরস গত রবিবার সন্ধ্যায় শুরু হয়। ওইদিন মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদীর নেতৃত্বে তাদের  সমর্থকরা এসে মাজার পূজা ও গানবাজনা বন্ধ করতে বলেন।

কিন্তু মাজারের খাদেম অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ওরস বন্ধে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্য দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায় লাঠি সোঁটা নিয়ে মাজার ভাঙচুর করে এবং আগুন  দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ইসমাইল শাহ মাজারের খাদেম অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদীর নেতৃত্বে তাদের শতাধিক সমর্থক লাঠি সোঁটা নিয়ে এসে অতর্কিতভাবে মাজারে হামলা চালায় এবং আগুন দেয়। তারা ভক্তবৃন্দকে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।’

তবে ওমর ফারুক জেহাদী বলেন, ‘এখানে ওরসের নামে গানবাজনা ও গাজা মাদক সেবন ও নারীর আসর বসে। মাজারটির ভক্তবৃন্দ মহিলারা পীরের কবরে ও প্রধান খাদেম অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের পায়ে সেজদা দেয়। যা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। আমরা মাজারের খাদেম মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে এই রমজান মাসে অনৈতিক কাজ  থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি তা শুনেননি।  তার নির্দেশে ভক্তবৃন্দ আমার লোকজনের ওপর হামলা করেছে। এই মাজারের খাদেম বাবুল ও তার  দোসরদের শাস্তি দাবি করছি।

আমতলী ফায়ার স্টেশনের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ২ টা ৩৫ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুনে মাজারের ভেতরের সামিয়ানা ও দুই ঘর পুড়ে গেছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাসেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান ও ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে  আসেন। তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। গতকাল

সকালে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সকল পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত