তাইওয়ানের কাছে আবারও সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। মঙ্গলবার তাইওয়ানের আকাশে ৫৯টি চীনা উড়োজাহাজ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯টি উড়োজাহাজের পাশাপাশি ৯টি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও দুটি বেলুন শনাক্ত করা হয়েছে। উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ৫৪টি গতকাল সোমবার যৌথ যুদ্ধ টহলে অংশ নিয়েছিল। তাইওয়ানের কাছে এই সামরিক মহড়াকে বিচ্ছিন্নতাবাদের শাস্তি হিসেবে অভিহিত করেছে চীন। গত শুক্রবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে চীনকে বিদেশি শত্রু শক্তি বলে অভিহিত করার পর এই ঘটনা ঘটল।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, চীনের বিমানগুলো তাইপের উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্ব আকাশসীমায় উড়েছে। আর তাইওয়ানের বিমান ও নৌবাহিনীকে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৪২টি বিমান তাইওয়ান প্রণালির মধ্যরেখা (দুই পক্ষের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক বাফার জোন) অতিক্রম করেছে। তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বলেছে, বেইজিং দ্বীপটির বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি অব্যাহত রেখেছে। যা তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। তারা চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে প্রকৃত অশান্তি সৃষ্টিকারী উল্লেখ করে মিত্র দেশগুলোকে চীনের সামরিক সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
তাইওয়ানকে সব সময় নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। তারা যেকোনো মূল্যে স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপরাষ্ট্রটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের চারপাশে যুদ্ধবিমান এবং নৌযান মোতায়েন বাড়িয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লাই প্রশাসন যদি উসকানি দেয় এবং আগুন নিয়ে খেলার সাহস দেখায় তবে এটি কেবল তাদের ধ্বংসই ডেকে আনবে। গত সপ্তাহে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই বলেন, চীন দ্বীপটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। তিনি বেইজিংয়ের এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
