নরসিংদীর চরে আধিপত্যের সংঘাতে ২ খুন

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল চানপুরে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারে দুপক্ষের সংঘর্ষে টেঁটা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রবাসফেরত দুই যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের মোহিনীপুর গ্রামের বড়বাড়ি বংশ ও জান মাহমুদ বাড়ি বংশের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুটি গ্রুপের মধ্যে বড়বাড়ির নেতৃত্ব দেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম ও জান মাহমুদ বাড়ির নেতৃত্ব দেন ইউপি সদস্য সামসু মিয়া।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার বারেক হাজির ছেলে বাশার মিয়া (৩৫) ও খোরশেদ মিয়ার ছেলে আমিন মিয়া (২৩)। আমিন তিন মাস আগে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে আসেন। নিহত দুজন সালাম সমর্থিত বলে জানা গেছে। দুটি মরদেহ সকালে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে সেনাবাহিনীর একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শন করে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহিনীপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সামসু মিয়ার সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ। এরই জেরে দুপক্ষের অনুসারীরা প্রায়ই দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়াত। এর আগের সংঘর্ষে আবদুস সালামের অনুসারীরা হেরে গিয়ে এলাকা ছাড়ে। ঈদ সামনে রেখে শুক্রবার ভোরের দিকে তারা এলাকায় ফিরছিল। এ সময় ইউপি সদস্য সামসু মিয়ার লোকজন তাদের এলাকায় ঢুকতে বাধা দিলে দুপক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও টেঁটা-বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলি ও টেঁটার আঘাতে আবদুস সালাম পক্ষের দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে পুলিশের আরেকটি দল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রস্তুত করে মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত আমিনের বাবা খোরশেদ মিয়া বলেন, ‘সামসু মিয়ার অত্যাচারে আমরা পাঁচ মাস ধরে বাড়িছাড়া। সে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। আমরা ঈদ উপলক্ষে আজকে (গতকাল) বাড়িতে ঢুকতে গিয়েছিলাম। এ সময় সামসু মিয়ার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলে। আমার স্ত্রী আহত হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে আবদুস সালাম বলেন, ‘সামসু মেম্বারের সঙ্গে পূর্ব থেকে বিরোধ ছিল। গত ছয় মাস আমার লোকজন এলাকার বাইরে ছিল। রমজানের ঈদ এলাকায় করার জন্য তারা গতকাল ভোরে এলাকায় প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এ সময় সামসু মেম্বারের লোকজন হামলা চালায় এবং দুজন গুলিতে নিহত হয়।’ এ ঘটনায় সামসুসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ইউপি সদস্য সামসু মিয়া বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমার তিনজন অনুসারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রতিপক্ষের দুজন মারা গেছে বলে শুনেছি।’

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাবেয়া সুলতানা বলেন, ‘আমিন ও বাশার নামে দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’ রায়পুরা থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদী পুলিশ সুপার আবদুল হান্নান সাংবাদিকদের আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে রায়পুরার চানপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত