দাতা-গ্রহীতার সেতুবন্ধন বিকাশের ডোনেশন সেবা

  • বিকাশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে এই রমজানে অন্যের মুখে হাসি ফোটানো আরও সহজ
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৫, ১২:১৭ পিএম

বাড়িতে থাকা পরিবারকে একটু বেশি টাকা পাঠানোর জন্য নিজের সেহেরি-ইফতার মাস্তুল ফাউন্ডেশনের মেহমানখানায় সারেন ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা মোমিন আলী। 

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মোমিন বলেন, ‘কোনোরকম বাদাম বিক্রি করে সংসার চলে, খাবারের জন্য চিন্তা করতে হয় না এইটা বড় রহমত।’

রমজান মাসে সুবিধাবঞ্চিত এমন লাখো মানুষের সেহরি-ইফতার নিশ্চিন্ত, নির্বিঘ্নে করতে কাজ করছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন, মজার স্কুল, জাগো ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট সহ নানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রতিদিন লাখো মানুষ সেহরি-ইফতার এই নিশ্চয়তার সাথে জুড়ে আছেন সারা দেশের নানা প্রান্তের অসংখ্য দাতা। দাতা-গ্রহীতার এই সেতুবন্ধনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুদান সেবা। অসংখ্য মানুষের ক্ষুদ্র অনুদানকে একত্রিত করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর কাজকে গতিশীল রাখে বিকাশের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা প্ল্যাটফর্মগুলো।

যার সাহায্য প্রয়োজন আর যিনি সাহায্য দিতে চান তাদের মধ্যে দূরত্ব এখন আর বাধা নয়। গ্রহীতা-দাতার মধ্যে এই দূরত্ব দূর করে বিকাশের মতো প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে মানবিক ও সামাজিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিশ্বস্ত মাধ্যম। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা দূরত্বের দেয়াল ভেঙে, মানুষের ভালোবাসা পৌঁছে যাচ্ছে সঠিক ঠিকানায়। উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে, দানের প্রচলিত পদ্ধতিতে বিকাশ এনেছে আমূল পরিবর্তন; নিশ্চিত করছে প্রতিটি সাহায্য যেন দ্রুত আর নিরাপদে পৌঁছে যায় সঠিক মানুষের কাছে।

যার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার কাছে দানের টাকা পৌঁছানোটাও একটা সময় কঠিন ছিল। তবে এখন বিকাশের গ্রাহক-বান্ধব ডোনেশন ইন্টারফেস এই বাধাগুলো দূর করেছে। স্মার্টফোনের কয়েকটি ট্যাপেই ৪০টি সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি অসহায় মানুষের জন্য সাহায্য পাঠানো যাচ্ছে। ‍যিনি দান করেছেন তার জন্য দানের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায়, মানবিকতার প্রকাশ এখন আরও সাবলীল হয়েছে এবং আরও বেশি মানুষ তার সাধ্যমতো দান করছেন।

বিকাশের ডোনেশনের বদৌলতে যাদের জীবনে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে, তাদের একজন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের শাহিদা। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দুই সন্তানের মা, স্বামী-পরিত্যক্তা শাহিদার জীবনের গল্পটি কঠিন বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। দুই সন্তানকে নিয়ে চলছে তার জীবনসংগ্রাম।

‘গ্রামেই থাকি। ২০ বছর হইছে একদিনও শ্বশুর বাড়ি যাওনের ভাগ্য হয়নাই। সংসার করা আমার কপালেই নাই।’  বলতে বলতে নিজের ছাপড়া ঘরটার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকান শাহিদা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা মেয়ের দায়িত্ব নিলেও, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগানো তার সাধ্যের বাইরে ছিল। নিজে দিন-ভিত্তিক কাজ করলেও সেই আয়ে চিকিৎসাসেবা চালানো প্রায় অসম্ভব। সঠিক চিকিৎসার অভাবে তার বড় ছেলে আল-আমিনের ১৫ বছর বয়সেও শারীরিক বৃদ্ধি হয়নি। সন্তানদের বাঁচাতে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি।

শাহিদার এই কঠিন সংগ্রামে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ডের টাকায় এখন সুচিকিৎসা পাচ্ছে তার সন্তানরা। সারা দেশ থেকে বিকাশ এর মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে আসা দান কাজে লাগিয়ে, এই ফাউন্ডেশন শাহিদার সন্তানদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে। শাহিদার মতো এমন হাজারো অসহায় অভিভাবক থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত সন্তানদের নিয়ে থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আসেন একটু সহযোগিতা পাওয়ার আশায়। 

থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ডাক্তার জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এই ফাউন্ডেশনে সাড়ে সাত হাজার নিবন্ধিত রোগী রয়েছে, যাদের কে চিকিৎসাসেবা এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এখানে যেকোনো পরিমাণের টাকা অনুদান দেওয়া যায়, যেকোনো ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান দিতে পারেন। বিভিন্নভাবেই অনুদানের অর্থ দিতে পারেন। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে দাতা তার সাধ্যমতো যতটুকু টাকা পাঠাতে চান তার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো বিকাশ।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ার পাঠ চুকিয়ে সবে চাকরি পেয়েছে আসমা। আসমা বলে আমার মনে হয় শিক্ষা একজন মানুষেরই নয় একটা পরিবারের ও মুক্তি আনতে পারে। আমার স্বল্প সামর্থ্যে তাই আমি প্রতিমাসে অভিযাত্রিক এর শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু অনুদান পাঠাই। বিকাশ এর মাধ্যমে এই অনুদান পাঠানোর ব্যবস্থা আমাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আমাদের সাধ্যমতো এভাবে দান করি তাহলে যাদের প্রয়োজন তারা সবাই সহায়তা পেতে পারে বলেই আমার বিশ্বাস। 

বিকাশ অ্যাপ থেকে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন, ডোনেশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, প্রথম আলো ট্রাস্ট, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, মজার ইশকুল, জাগো ফাউন্ডেশন, শক্তি ফাউন্ডেশন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সাজিদা ফাউন্ডেশন, মির্জাপুর এক্স ক্যাডেটস অ্যাসোসিয়েশন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, এসওএস চিলড্রেন ভিলেজ বাংলাদেশ, আইসিডিডিআর, বি, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এরকম প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহজেই অনুদান দিতে পারছেন মানুষ। বিকাশের মাধ্যমে ডোনেশনের বিস্তারিত জানতে পারেন এই লিংক- এ : https://www.bkash.com/products-services/donation|

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত