ঈদ যাত্রার দ্বিতীয় দিনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়েনি। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভিড় কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শুরু করে। তবে বাস টার্মিনালগুলোতে এখনো বাড়েনি ভিড়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল যারা যাত্রা করছেন তারা অগ্রিম টিকিট গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে কিনেছিলেন। এবার বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধ করার জন্য কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাশাপাশি নাশকতা প্রতিরোধ করার জন্য চলন্ত ট্রেন, স্টেশন ও রেললাইনে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব, বিজিবি, স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ভিআইপি রুমে ঈদে ট্রেন ও যাত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠক শেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানান, আগামী ২৭ মার্চ থেকে রেলপথের যাত্রায় মূল ভিড় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই ভিড় চলবে গার্মেন্টস ছুটির দিন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। এ সময়ে যেন কেউ ট্রেনের ছাদে চড়তে না পারে সেজন্য স্টেশন এলাকায় ২৭ তারিখ থেকে কোনো মই ও টুল দেখতে পাবেন না।
তিনি আরও জানান, বিনা টিকিটের যাত্রীদের ভ্রমণ থেকে বিরত রাখতে দেশের প্রধান প্রধান স্টেশনগুলোতে তিন স্তরের টিকিট চেকিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঢাকা স্টেশনের আশপাশে বেশ কয়েকটি পকেট গেট রয়েছে, যেসব গেট দিয়ে মূলত বিনা টিকিটের যাত্রীরা সুযোগ নিয়ে থাকে। আমরা আমাদের তিন বাহিনীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছি, সেই পকেট গেটগুলোতে তারা শক্তভাবে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করতে।
সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি রেলের ক্ষেত্রে ঈদের সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। তারা রেলওয়ে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের বিষয়টি নিশ্চিতে কাজ করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ঈদযাত্রার বিষয়টি দেখভাল করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে দুজন অতিরিক্ত সচিবকে দুই অঞ্চলে রাখা হয়েছে।
টিকিট কালোবাজারির প্রশ্নে রেলপথ সচিব বলেন, ফেসবুকে দেখা যায় টিকিট পাওয়া যাচ্ছে এমন অনেক পোস্ট আছে। কিন্তু সাধারণ যাত্রীরা অনেকে যোগাযোগ করে প্রতারিত হচ্ছেন। এ বিষয়টি আমরাও ফেসবুকে সার্চ করে পেয়েছি। সেগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শেয়ার করি। তখন তারা সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়। আমরা কখনো কখনো বিটিআরসিকে লিস্ট করে দেই এই পেজ থেকে প্রতারণা করা হচ্ছে। তারপরে তারা সেই পেজগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়।
বাস টার্মিনালগুলোতে বাড়েনি ভিড়। সরেজমিনে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালগুলোতে ঈদযাত্রায় সড়কপথে বাড়তি চাপ দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেছেন, যারা ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ঈদকে ঘিরে কোনো বাস কাউন্টার বা সংশ্লিষ্ট কেউ ঈদ বকশিস বা অন্য যেকোনো নামে টাকা আদায় করলে যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তা ছাড়া, আওয়ামী সরকারের আমলের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিবহন সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে তাদের প্রতিহত করব।’
যাত্রী হয়রানি-ছিনতাই রোধে সিসি ক্যামেরায় টার্মিনাল মনিটরিং : স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা যাত্রী হয়রানি ও ছিনতাই রোধে সিসি ক্যামেরায় টার্মিনাল মনিটরিংয়ের কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘ছিনতাই এবং যাত্রী হয়রানি দূর করতে টার্মিনালগুলোর প্রত্যেকটি জায়গায় সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং বিআরটিএ এর সমন্বিত উদ্যোগে থাকবে সিসিটিভি এবং ইলেকট্রনিক মনিটরিং, কোনো প্রকার ব্লাইন্ড স্পট থাকবে না।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে সিসিটিভির আওতায় মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শন ও উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে বাস টার্মিনাল সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বেষ্টনীর আওতায় আনার ক্ষেত্রে সিসিটিভি স্বল্পতা পরিলক্ষিত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসিটিভির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাস টার্মিনালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকবে সরকার। পাশাপাশি বাস মালিকদের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, বাস টার্মিনালে যথেষ্ট জায়গা রয়েছে, প্রয়োজন সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা। যাত্রীরা টার্মিনাল থেকে ওঠার কথা, কিন্তু যাত্রীরা রাস্তা থেকে ওঠে। ফলশ্রুতিতে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম বৃদ্ধি পায় এবং ঈদে জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে রাস্তায় যাত্রী না উঠিয়ে, টার্মিনাল থেকে যাত্রী ওঠা-নামার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
