চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মো. জাবেদ (৪৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। বুধবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টায় উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর বাজারে এ সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত জাবেদ চট্টগ্রামের বায়োজিদ থানার বাংলাবাজারের নীলগিরি আবাসিক এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ মীরসরাই উপজেলা, মীরসরাই পৌরসভা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই তিন কমিটি ঘোষণার পর থেকে উপজেলাজুড়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এ নিয়ে ২৫ মার্চ দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পরদিন উপজেলাজুড়ে নতুন তিন কমিটির নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বুধবার সকালে স্বাধীনতা দিবসে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা দেয় বিএনপির দুই গ্রুপ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর ও তার আশপাশের ৫০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে নামে বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বুধবার সকাল ১০টায় বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন লিটনের বাড়ির সামনে আমাদের নেতাকর্মীদের পথ অবরুদ্ধ করে হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। দুপুর ১২টায় আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল সহকারে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে প্রবেশ করলে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন অস্ত্রসহ হামলা চালান। হামলায় জাবেদ নামের একজন পথচারী নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।
তবে পাল্টা অভিযোগ করে বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেনসহ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী ও মাঈন উদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। পরে শান্তিরহাট রোডের মুখে তাদের সঙ্গে আমাদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জাবেদ নামের একজন পথচারী নিহত হন। সংঘর্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের সুমন, বাবুল, মিজান, নুর উদ্দিন, আরিফসহ ৮-১০ জন আহত হয়েছেন।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজিয়া আফরিন বলেন, জাবেদ নামের একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার পেটে ছুরির আঘাত রয়েছে। আহত আরও ১০-১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গত দুদিন ধরে উত্তেজনা চলে আসছে। আজ সকালে দলটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজা জেরিন সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপির একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করেন। মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
