আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তমাল মনসুরের নামে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে ১৪টি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরু অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানান।
দুদকের তথ্যমতে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তমাল মনসুরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৯৭ হাজার ২৭০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন নিজ ভোগদখলে রাখা ও তার তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৩ টাকার সন্দেহজনক অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া তার যুক্তরাস্ট্রের নিউ ইয়র্কে ১৪টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ৬৩ কোটি ৯৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
দুদকের তথ্যমতে, তমাল মনসুরের নামে নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা স্ট্রিটের ৮৭-২৬, ১৭৫ নম্বর ল্যামডা প্রপার্টিজের আফতাব ভিউ টাওয়ারে ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট ও চারটি পার্কি স্পেস ক্রয় করা হয়েছে। এসব অ্যাপার্টমেন্টর দাম (প্রতি ডলার ৭৭ টাকা হিসাবে) ৩৮ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি জ্যামাইকার কুইন্স ব্লকের ১০২ নম্বর প্লটে পারথেনন এলএলসি কোম্পানি থেকে ১০ কোটি ৬৫ লাখ (প্রতি ডলার ৭৫ টাকা হিসেবে) টাকায় একটি এবং একই এলাকার ৮৯ নম্বর অ্যাভিনিউ ১৪৮ নম্বর স্ট্রিটে পারথেনন এলএলসি কোম্পানি থেকে ১৫ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার (প্রতি ডলার ৭৭ টাকা হিসাবে) টাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করেন।
এ বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, তমাল মনসুর মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করেছেন। তার অ্যাপার্টমেন্টগুলো ফ্রিজ করতে আদালতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্ট রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব-১ মুহাম্মদ আশরাফুল আলম খোকন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখা এবং তার তিনটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭২ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর ও হস্তান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি ক্রয় করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বামী আশরাফুল আলম খোকনের সহায়তায় তার স্ত্রী রেজওয়ানা নুর ৩ কোটি ৮ লাখ ৮১ হাজার ৫৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখা এবং তার তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৭ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
