পেনাল্টি রক্ষা করে করিন্থিয়ান্সকে শিরোপা এনে দিলেন হুগো

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, ১১:৩৯ এএম

দীর্ঘ ছয় বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে অবশেষে পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট মাথায় নিলো করিন্থিয়ান্স। বৃহস্পতিবার রাতে নিও কেমিকা অ্যারেনায় ০-০ গোলে পালমেইরাসকে রুখে দেয় তারা, আর তাতেই নিশ্চিত হয় ২০২৫ কাম্পেওনাতো পাউলিস্তার শিরোপা। প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে জেতার সুবাদে দ্বিতীয় লেগের এই ড্র-ই যথেষ্ট ছিল টিমাওদের জন্য। তবে ম্যাচের নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক হুগো সুজা, যিনি দ্বিতীয়ার্ধে রাফায়েল ভেইগার পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দলের শিরোপা নিশ্চিত করেন।

গত বছর করিন্থিয়ান্সে যোগ দেওয়া হুগো সুজা ইতোমধ্যেই হয়ে উঠেছেন দলের এক অনন্য নায়ক। শুধু এই ম্যাচেই নয়, টিমাও জার্সি গায়ে তিনি এর আগেও সাতবার পেনাল্টি রক্ষা করেছেন। বিশেষ করে পালমেইরাসের বিপক্ষে প্রথম পর্বেও তিনি এস্তেভাওয়ের শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি রেড বুল ব্রাগান্তিনো (কোপা সুদামেরিকানা), গ্রেমিও (কোপা ডো ব্রাজিল) এবং নভোরিজন্তিনো (পাউলিস্তা) ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

এই শিরোপার মধ্য দিয়ে সাও পাওলো রাজ্যের ফুটবল শ্রেষ্ঠত্ব আরও দৃঢ় করলো করিন্থিয়ান্স। এটি তাদের ৩১তম পাউলিস্তা শিরোপা, যা রাজ্যের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি।

টানা চারবার পাউলিস্তা জয়ের ইতিহাস গড়তে চেয়েছিল পালমেইরাস। কিন্তু করিন্থিয়ান্স তাদের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিলো। ২০২০ সালে ঠিক একইভাবে পালমেইরাসের কাছে হেরে চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারিয়েছিল করিন্থিয়ান্স। এবার যেন সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিলো তারা।

দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি ছিল রক্ষণাত্মক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। প্রথমার্ধে করিন্থিয়ান্স রক্ষণ দৃঢ় করে পালমেইরাসের আক্রমণগুলো ব্যর্থ করে দেয়। পালমেইরাসের পক্ষে সেরা সুযোগটি আসে ২৭তম মিনিটে, যখন মেমফিস ডিপাই ও গ্যারোর সংযোগে একটি জোরালো শট পোস্টে লাগে।

যে পেনাল্টি বাঁচিয়ে করিন্থিয়ান্সকে জেতান হুগো।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পালমেইরাস, তবে করিন্থিয়ান্সের রক্ষণের দৃঢ়তায় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। ১৩ মিনিটে বিতর্কিত একটি মুহূর্ত আসে, যখন ভিক্টর রোককে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন ফেলিক্স টোরেস। কিন্তু করিন্থিয়ান্সের গোলরক্ষক হুগো সুজা অসাধারণ দক্ষতায় রাফায়েল ভেইগার শট ঠেকিয়ে দেন।

এই পেনাল্টির পরই ম্যাচের উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পালমেইরাসের সমর্থকরা ফেলিক্স টোরেসকে লাল কার্ড দেখানোর দাবি জানান। তবে লাল কার্ড দেখেন পালমেইরাস কোচ আবেল ফেরেইরা। কিছুক্ষণ পর, আরেকটি ফাউলের কারণে ফেলিক্স টোরেসও মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

ইনজুরি টাইমে আরও একবার ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন মেমফিস ডিপাই। সাইডলাইনে বল নিয়ে কসরত করতে গিয়ে পালমেইরাসের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত, এই ঘটনায় করিন্থিয়ান্সের হোসে মার্তিনেজ ও পালমেইরাসের গোলরক্ষক মার্সেলো লোম্বাও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

করিন্থিয়ান্স ও পালমেইরাস দু'দলই এবার নজর দেবে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে। রবিবার পালমেইরাস তাদের প্রথম ম্যাচে বোটাফোগোর মুখোমুখি হবে, আর করিন্থিয়ান্স খেলবে বাহিয়ার বিপক্ষে। তবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর পুনর্মিলন বেশিদিন অপেক্ষা করিয়ে রাখছে না—১৩ এপ্রিল ব্রাজিলিয়ান লিগের তৃতীয় রাউন্ডেই আবার মুখোমুখি হবে এই দুই জায়ান্ট।

করিন্থিয়ান্সের জন্য এটি শুধু একটি শিরোপা নয়, এটি তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আর পালমেইরাসের জন্য এটি এক হৃদয়ভাঙা রাত, যেখানে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেলো হুগো সুজার এক অসাধারণ মুহূর্তে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত