ইডেন গার্ডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আইপিএলের চলতি আসরে দারুণ ছন্দে থাকল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে এই জয়ের নেপথ্যে পুরো ৪০ ওভার নয়, মূলত পাঁচ ওভারেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে কেকেআর।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে কলকাতা ২০ ওভারে তোলে ২০০ রান, যেখানে শেষ পাঁচ ওভারে আসে ৭৮ রান। সেই অতিরিক্ত রানই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ ১৬.৪ ওভারে ১২০ রানে গুটিয়ে যায়।
১৫ ওভার শেষে কলকাতার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১২২। তখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল হায়দরাবাদের বোলারদের হাতে। কিন্তু ১৬তম ওভার থেকেই রং বদলাতে শুরু করে কলকাতার ইনিংস। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও রিংকু সিংয়ের ব্যাটে ঝড় তুলে শেষ পাঁচ ওভারে ৭৮ রান যোগ করে স্বাগতিকরা।
নিলামে প্রায় ২৪ কোটি রুপিতে বিক্রি হওয়া ভেঙ্কটেশ আগের দুই ম্যাচে রান পাননি। এই ম্যাচেও শুরুর আট বলে করেছিলেন মাত্র পাঁচ রান। অন্যদিকে, রিংকুও ছন্দে ছিলেন না। কিন্তু এদিন তারা দুজনই ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন।
শেষ ওভারের তৃতীয় বলে আউট হওয়ার আগে ভেঙ্কটেশ ২৯ বলে ৬০ রান করেন, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। আর রিংকু অপরাজিত থাকেন ১৭ বলে ৩২ রান করে, হাঁকান ৪টি চার ও ১টি ছয়।
২০০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় হায়দরাবাদ। প্রথম ওভারেই ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে দেন বৈভব অরোরা। পরের ওভারেই হর্ষিত রানার বলে ফিরে যান অভিষেক শর্মা।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি হায়দরাবাদ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত ১৬.৪ ওভারে ১২০ রানে অলআউট হয়।
ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলার পর বল হাতে কলকাতার বোলাররাও সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। বৈভব অরোরা, হর্ষিত রানা ও সুনীল নারিন তিনজনই শিকার করেন ২টি করে উইকেট।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। অন্যদিকে, হায়দরাবাদের জন্য এটি ছিল সতর্কবার্তা—ম্যাচের একটি ছোট অংশই কখনও কখনও পুরো খেলার গতিপথ বদলে দিতে পারে!
