আশা জাগিয়ে হতাশার পথে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:১৭ এএম

রাজস্ব আদায় কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের কার্যক্রম। এ কারণে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার মায়াবন্দর থেকে নৌপথে পণ্য আনা-নেওয়াও বন্ধ। নৌবন্দরটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এক বছর ধরে অলস পড়ে থাকায় হতাশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এখানে বন্দরের কার্যক্রম চালুর জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আবেদন করে রাখলেও কবে নাগাদ এই অনুমোদন মিলবে, তার কোনো আভাস মিলছে না।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপরই পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি নৌযান চলাচল করে। নৌযান চলাচলের অভিজ্ঞতায় আশার আলো দেখেন আমদানি-রপ্তানিকারকরা। খুবই কম সময়ে এবং অল্প খরচে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য পরিবহনের এই সুযোগ বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করেন তারা।

আনুমানিক ২০ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথে খরচ ও সময় দুটিই কম লাগাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন ব্যবসায়ীরা। ভারতে পণ্য আমদানি ও রপ্তানিকারক আবু সাঈদ বলেন, প্রথমবারের মতো রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি করার অভিজ্ঞতায় তিনি যেটা বুঝেছেন সেটা হলো, এই নৌবন্দরটি ব্যবসার নতুন দুয়ার খুলে দেবে। আর্থিকভাবে যেমন লাভবান হয়েছেন, তেমনি সময়ও বেঁচেছে অনেকটাই।

অবশ্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে আশার আলো দেখার পরও দুই কর্র্তৃপক্ষের টানাটানিতে এটি ঝুলে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এ বন্দর দিয়ে ভারতে প্রথম পাট পাঠিয়েছি আর পাথর এনেছি। যে পরিমাণ খরচ হবে চিন্তা করেছিলাম, তার থেকেও কম খরচ হয়েছে। একেবারে ছোট রুট হিসেবে কোনো ঝুঁকি দেখি না। সুলতানগঞ্জ থেকে ময়া নৌঘাটের নদীপথে দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। সুলতানগঞ্জ নৌঘাটটি রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশেই পদ্মা ও মহানন্দা নদীর মোহনায়। সারা বছর সুলতানগঞ্জের এ পয়েন্টে গভীর পানি থাকে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মায়া নৌঘাটটি মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমা শহরের কাছে ভারতীয় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সুলতানগঞ্জ-ময়া পথে নৌবাণিজ্য শুরু হওয়ায় পরিবহন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে। এতে রাজশাহীর অর্থনীতি গতিশীল এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন শেখ এই নৌবন্দরটি নিয়ে আলোচনা শুরুর সময় থেকে এটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনিও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনিও আশা দেখেন এই নৌবন্দরটি নিয়ে। জালাল উদ্দিন জানান, বন্দরটির মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই ভালো ভূমিকা রাখবে। খুবই ছোট পথে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আছে। সময়ও বাঁচবে। আবার গোদাগাড়ী থেকে সোনামসজিদ যে সড়কপথ, সেটার ওপরও চাপ কমানো সম্ভব হবে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে আমাদের মায়া ও সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরটি খুবই কাছাকাছি দূরত্বের। বাংলাদেশে এত কাছাকাছি কোনো নৌবন্দর নাই। এটি এখানকার ব্যবসায় সুদিন আনবে বলে আমরা আশা করি। কিন্তু এখন এটি ঝুলে আছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় মায়ার সঙ্গে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আসবে। সোনামসজিদে যে ল্যান্ড পোর্ট আছে, সেটি তাদের ক্যাপাসিটি পার হয়ে গেছে। তাদের ওখানে আর ধরছে না। ল্যান্ড পোর্টের মাধ্যমে যে পাথর, কয়লা আসছে, এগুলোর ব্যয় অনেক বেশি। নৌপথে আসলে খরচের চাপটা কমবে। এই পোর্টটি চালুর জন্য এখন সেখানে মূলত রাজস্ব আদায় কার্যক্রম চালু করতে হবে। এটির জন্য আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছি। এখন আমরা এটির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত