নারী সাংবাদিককে হেনস্তা মারধর গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:১৮ এএম

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় রাফিয়া তামান্না নামে এক নারীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিসানও আছেন। ভুক্তভোগী ওই নারী ইংরেজি দৈনিক নিউ এজে কাজ করেন। এ ঘটনায় তিনি রামপুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে বনশ্রীর ই-ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের একটি জুসের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ভুক্তভোগী রাফিয়া তামান্না ও তার ছোট ভাই রিশাদকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যাব জানিয়েছে, নারী সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনার আলোচিত প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, বুধবার রাতে রামপুরা এলাকায় যৌন হয়রানিসংক্রান্ত একটি ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হলে তা ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। বিষয়টি র‌্যাব-৩-এর নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে ছায়াতদন্ত শুরু করে। এ বিষয়ে রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত জিসানকে মেরাদিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বেইলি রোড থেকে মো. রাইসুল ইসলাম ও গে-ারিয়া থেকে মো. কাউসার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে রাফিয়া তামান্না রামপুরা থানায় জিসান ও পার্থিব নামে দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি তার ফেসবুকে লেখেন, “বুধবার রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে আমি এবং আমার ছোট ভাই রিশাদ বনশ্রী ই-ব্লকের ৩ নম্বর রোডের একটি জুসের দোকানে ছিলাম। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক আমাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। আমার ভাই প্রতিবাদ করলে তারা প্রথমে তাকে মারধর করে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে, শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে। আমরা নিজের বাসার সামনেই নিরাপদ নই। ছেলেগুলো এমনভাবে আচরণ করছিল, যেন তারা যা করছে সেটাই তাদের অধিকার। আমার ভাই যখন প্রতিবাদ করল, তখন তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এমনকি তারা আমাকে হেনস্তা করার পরও অকপটে বলে, ‘হ্যাঁ, আমরা রেপ করেছি, কী করবে?’ আমাকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় আমার ভাইকে মারধর করা হলো, আমাকেও লাঞ্ছিত করা হলো। অথচ আশপাশের কেউ এগিয়ে এলো না।”‎

‎তিনি আরও লেখেন, ‘আমার চুল টেনে ধরে আমাকে হ্যাঁচকা টান দেওয়া হলো, বুকে আঘাত করা হলো, লাথি মারা হলো। চারপাশের সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিল, কেউ কিছু বলেনি।’‎ তার এ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই প্রতিবাদ করেছেন। তারা বলেছেন, রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। শুধু রাস্তায় নয়, নিজেদের বাড়ির সামনেও নিরাপদ নন নারীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত