দখল ফেরাতে সাবেক উপমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:২০ এএম

দীর্ঘ ২৮ বছর আগের দখল ফেরাতে জামালপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক। দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই আগ্নেয়াস্ত্র পরিদর্শনের দুটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সাবেক মন্ত্রীর বড় ছেলেকে মারধর করেছে বলে দাবি সাবেক ওই মন্ত্রীর।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর আগ্নেয়াস্ত্র পরিদর্শনের ভিডিও ক্লিপ দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড এবং ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের শফির মিয়ার বাজার এলাকায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনেক মানুষের সমাগম। সেখানে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হককে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তার ডান হাতে একটি পিস্তল। তিনি পিস্তলটি বারবার ওপরদিকে প্রদর্শন করছেন।

এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, আমার ফাঁসি হলে হবে। আমি ফাঁসি মেনে নেব। তাও গাদ্দারকে মেরে ফেলব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে সিরাজুল হক তার একদল অনুসারী নিয়ে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন এবং দলীয় নেতাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

ঘটনার পরপরই বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘দলের ঐক্যের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে সিরাজুল হক বলেন, ‘ঘরটা বাবা আমার ছেলেকে দিছে। ২৮ বছর যাবৎ ঘরটা নিয়ে অফিস দিছে। ২৮ বছরে ভাড়া হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিষয়টা নিয়ে আমার ছেলে গেছে কথা বলতে। আমার ছেলে বলছে ঘরটা ছেড়ে দেন। আমার ছেলেকে মামুনের ভাই রেদুয়ান, ভাগ্নে রুমেল মারছে। আমারে ফোন করছে। আমার ছেলেরে তো আমি কোনোদিন চড়ও দিইনি। আমার লাইসেন্সধারী রিভলবারটা তো গভর্মেন্ট আমার সিকিউরিটির জন্য দিয়েছে। আমি আমার নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে গেছি। আমি খালি হাতে যাব কেন? আগামী মঙ্গলবার ঘর ছেড়ে দেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘অফিসের ঘরটা তার। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তিনি ঘর ছেড়ে দেবেন এটা তিনি বলতেই পারেন। তবে তিনি যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন সেটা সঠিক হয়নি।’

জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ওই জায়গায় সিরাজ ভাইয়ের নেতৃত্বেই পার্টি অফিস করা হয়েছে। জোরপূর্বক দখল করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আমাদের বড় ভাই। তিনি আমাদের অভিভাবক তার বিরুদ্ধে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত