গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিস্তীর্ণ এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কয়েকদিন পর পর জ¦লে ওঠে রহস্যের আগুন। গতকাল শনিবার দুপুরেও দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে পুড়ে বনাঞ্চল। এতে বনভূমি ধ্বংসের পাশাপাশি মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। আগুন আতঙ্কে থাকেন আশপাশের বাসিন্দারাও। বাসিন্দাদের অভিযোগ, শালবন ধ্বংস করে সেখানে বনের প্লট তৈরির লক্ষ্যে এভাবে আগুন দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
এলাকাবাসী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্রা ও কাচিঘাটা রেঞ্জের আওতায় কয়েক হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এ বনভূমির বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও এখনো বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে বনাঞ্চল। আর প্রতিবছরের এই মৌসুমে কয়েক দিন পর পর বিভিন্ন এলাকার বনাঞ্চলে হঠাৎ আগুন জ¦লে ওঠে। দুর্বৃত্তের দেওয়া ওই আগুন আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে থাকেন সেখানে বসবাসরত বাসিন্দারা। গতকাল শনিবার দুপুরেও উপজেলার চন্দ্রা রেঞ্জের বোয়ালী বিট অফিসের আওতাধীন পাঠাতা মৌজার বারবাড়িয়া বনাঞ্চলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন সেখানে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পরও বিকেল ৫টা পর্যন্ত আগুন নেভাতে পারেনি। এরই মধ্যে আগুনে ওই এলাকায় ২-৩ একর বনাঞ্চল পুড়ে যায়। আগুনে পুড়ে বন্যপ্রাণী, কীটপ্রতঙ্গ কিংবা বিরল প্রজাতির বিভিন্ন গাছপালাও ধ্বংস হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে আগুনে বন পুরলেও কেন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয় না এমন প্রশ্ন ছুড়েন এলাকাবাসী? এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অচিরেই বনাঞ্চল ধ্বংস হবে বলে মন্তব্য করছেন নানা মহলের মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামান্য দূরে, কখনো সড়কের পাশে, আবার কখনো গভীর বনে কয়েকদিন পর পর আগুনে পুড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। অনেক সময় বন বিভাগ আগুনের খবর জানেও না বলে শোনা যায়। এ জন্য বিষয়টি রহস্যজনক। আসলে বনকর্মীদের উদ্দেশ্য বনাঞ্চল ধ্বংস করা। এরপর পতিত বনভূমিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আকাশমণি প্লট বরাদ্দের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এ কারণেই আগুন নিভিয়ে বনাঞ্চল রক্ষার জন্য দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। একই লক্ষ্যে এই অসময়েও বোয়ালী বিট অফিসের আওতাধীন নিশ্চিন্তপুর এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে বন কেটে পরিষ্কার করাচ্ছেন তারা। প্রকাশ্যে এসব এলাকার বনের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের নামে মামলা করাসহ নানা ধরনের হুমকি দেন বন বিভাগের লোকজন।
এ ব্যাপারে বোয়ালী বিট কর্মকর্তা আবু ইউনুছ বলেন, ‘বারবাড়িয়া আগুনের খবর পেয়ে আমরা নেভানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের সামান্য জনবল দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হয় না। এর আগের কয়েকটি স্থানেও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে পুড়ে ছাই সার হয়ে জমিতে নামবে এমন লক্ষ্যে পাশের জমিওয়ালা আগুন দিতে পারেন। তবে প্লট বরাদ্দের জন্য এমন আগুনের ঘটনা অস্বীকার করেন তিনি।
