সৌদির অস্থায়ী ভিসা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বাংলাদেশ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

হজ মৌসুম শুরুর আগে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য অস্থায়ীভাবে ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে সৌদি আরব। এ নিষেধাজ্ঞা ওমরাহ, ব্যবসা ও পারিবারিক ভিসার ওপর প্রযোজ্য। তবে এ নিষেধাজ্ঞা জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে তুলে নেওয়া হতে পারে বলে দেশটির কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে যারা ওমরাহ ভিসা পেয়েছেন, তারা ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন। নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিসর, ইরাক, জর্ডান, ইয়েমেন, আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিশিয়া, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, সুদান ও ইন্দোনেশিয়া। সৌদি কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রধান কারণ হলো অনেক মানুষ একাধিকবার প্রবেশযোগ্য ভিসা ব্যবহার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করে এবং হজ মৌসুম পর্যন্ত থেকে যায়। তারা অবৈধভাবে হজ পালনের চেষ্টা করে। এর ফলে অতিরিক্ত ভিড় হয় এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। আরেকটি বড় কারণ হলো অবৈধভাবে কাজ করা। দেখা গেছে, অনেক মানুষ ব্যবসা বা পারিবারিক ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করে। কিন্তু সেখানে অনুমতি ছাড়া কাজ করতে শুরু করে। এটি ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং দেশটির শ্রমবাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

সৌদি সরকার হজে অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি অনুসরণ করে। প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক হজ কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এ নতুন ভিসানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সম্প্রতি হজ পালনের সময় যেসব অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা সমাধান করা। ২০২৪ সালে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় রূপ নেয়। সেবার অতিরিক্ত ভিড় ও প্রচণ্ড গরমের কারণে ১ হাজার ২০০-র বেশি হজযাত্রী করুণভাবে মৃত্যুবরণ করেন। এ হৃদয়বিদারক ঘটনার পর সৌদি সরকার আরও কঠোরভাবে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও ভিসা নীতিমালা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। এ নতুন নীতির মাধ্যমে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ আশা করছে, ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনা আরও নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ হবে এবং হজযাত্রীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ মৌসুমে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য অস্থায়ীভাবে ভিসা স্থগিত করা হয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ ভিসা আবেদনকারীদের নতুন নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে সৌদি আরবে অবস্থান করলে ভবিষ্যতে তার ওপর পাঁচ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এ নতুন নীতি সৌদি আরবের বৃহত্তর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কৌশলের অংশ। ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক এখনো চাইলে সৌদি ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে ভ্রমণ পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এখন থেকে প্রতিবার সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য একবারের (সিঙ্গেল এন্ট্রি) ভিসার আবেদন করতে হবে। আগের মতো একাধিকবার প্রবেশযোগ্য ভিসা (মাল্টিপল ভিসা এন্ট্রি) ব্যবহার করা যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত