আরসাপ্রধান আতাউল্লাহ কারাগারে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিকে বান্দরবান কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে দুটি মামলায় জুনুনিকে প্রথমে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং পরে বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে আদালতে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে আরসাপ্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, রোহিঙ্গারা আরাকানের জমি পাবে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনূস যা করছেন সেজন্য শুকরিয়া আদায় করেন।

বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম মজুমদার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিকে বান্দরবানে আদালতে তোলার পর জেলহাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৭ মার্চ গভীর রাতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি পল্লী এবং ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরসাপ্রধান আতাউল্লাহ আম্মার জুনুনিকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের কাছে মাদকবিরোধী অভিযানে নামে র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের একটি বিশেষ দল। এ সময় আরসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন ডিজিএফআইয়ের স্কোয়াড্রন লিডার রেজওয়ান রশীদ। গুলিবিদ্ধ হন র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের সদস্য সোহেল বড়–য়া। ওই ঘটনায় ২৩ নভেম্বর নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ডিজিএফআই কক্সবাজার কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে আরসার প্রধান কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০২৩ সালে ১৫ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া আরসার প্রধান কমান্ডার আতাউল্লাহসহ ৪৯ জেনের বিরুদ্ধে বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এদিকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৭১ জন সদস্য নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

হামলার এক সপ্তাহ পর আতাউল্লাহ একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজেকে আরাকান রোহিঙ্গা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) নামক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

২০১২ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু হলে আতাউল্লাহ সৌদি আরব ত্যাগ করেন এবং রোহিঙ্গা প্রতিরোধ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৩ সালে তিনি আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত