প্রখ্যাত বাঙালি ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার জন্ম ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়ায়। বাবা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, তিনি ছিলেন তাদের একজন। বঙ্কিমচন্দ্র ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে ভারত সরকারের চাকরি করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
পেশাগত জীবনে তার সৃষ্টিশীল মননের বিকাশ ঘটে। জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংসর্গ ও তাদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া থেকে তিনি তার উপন্যাসের চরিত্র গ্রহণ করেন। বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় তিনি ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ও ‘কপালকুণ্ডলা’ রচনা করেন। উপন্যাস দুটি দ্রুত প্রচার লাভ করে।
১৮৮০ থেকে বঙ্কিমমনীষা রাজনীতি ও ধর্মের দিকে অগ্রসর হয়। সে সময় তিনি পুনরুত্থানবাদী সংস্কারক হওয়ার চেষ্টা করেন। ‘আনন্দমঠ’ তার শেষ উল্লেখযোগ্য কীর্তি। বাংলা উপন্যাস ও গদ্য সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। অতীতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার এবং পরবর্তী জীবনে সাহিত্যব্যক্তিত্ব হিসেবে নিষ্ক্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের আবির্ভাব পর্যন্ত সবার কাছে, এমনকি শিক্ষিত মুসলিম সমাজের কাছেও সে সময়ের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিগণিত হতেন।
