যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি বিরল ব্যবহৃত যুদ্ধকালীন ক্ষমতার আইন ব্যবহার করে অভিযুক্ত অপরাধচক্রের সদস্যদের দ্রুত নির্বাসন দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিম্ন আদালত অস্থায়ীভাবে ভেনেজুয়েলার অভিযুক্ত গ্যাং সদস্যদের এল সালভাদরে নির্বাসন বন্ধ করেছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, স্বল্প ব্যবহৃত ১৭৯৮ সালের বহিঃশত্রু আইন (এলিয়েন এনিমিস অ্যাক্ট) ব্যবহার করে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর আরও তদন্ত প্রয়োজন। তবে সোমবার নিম্ন আদালতের সেই আদেশ খারিজ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। কনজারভেটিভ নিয়ন্ত্রিত সুপ্রিম কোর্টের ৫-৪ ভোটের এ রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।
অভিযুক্ত ভেনেজুয়েলার গ্যাং সদস্যদের আটক করতে ট্রাম্প এলিয়েন শত্রু আইন ব্যবহার করেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ অভিবাসীরা অপরাধচক্র ত্রেন দে আরাহুয়ার সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে অনিয়মিত যুদ্ধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল অপরাধচক্রটি। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এ রায়কে জয় হিসেবে দেখছে। তবে বিচারপতিরা আদেশ দিয়েছেন যে, নির্বাসিতদের তাদের অপসারণ বা নির্বাসন চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে হবে। ট্রাম্প এ রায়কে যুক্তরাষ্ট্রে ন্যায়ের একটি মহান দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্ট আমাদের জাতির আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রেখেছে। একজন প্রেসিডেন্টকে, যে-ই হোক না কেন, আমাদের সীমান্ত রক্ষা এবং আমাদের পরিবার ও দেশের সুরক্ষার ক্ষমতা দিয়েছে।
এ আইনটি সর্বশেষ ব্যবহার করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে শত্রু দেশগুলোর নাগরিকদের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক বা নির্বাসনের ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। আইনটি ১৭৯৮ সালে পাস হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করছিল তারা ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃতদের সতর্কভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং গ্যাং সদস্য হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছে। তবে অনেক নির্বাসিতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই বলে আদালতের নথিতে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার এক কর্মকর্তা।
