৩৩৮ ম্যাচে ফ্রি-কিকে গোল করতে না পারা ডেকলান রাইস হয়ে গেলেন মেসি

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৫৮ পিএম

বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিকে গোল করায় জুড়ি নেই লিওনেল মেসির। তার অনেক ফ্রি-কিক দর্শকদের স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে গেছে। গতরাতে ইতিহাদে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে আর্সেনালের দ্বিতীয় যে গোলটি করেন ডেকলান রাইস তা মেসির কীর্তিকেও হার মানায়।

৫৮ মিনিটে রিয়াল বক্সের বাম দিকের কোণা থেকে প্রথম ফি-কিকটি ছিল বুকায়ো সাকাকে ফাউল করার ফসল। স্পটটা গোলপোস্ট থেকে প্রায় ২৫.৯ মিটার দূরে। ওডেগার্ড বলের পেছনে দাঁড়িয়ে রাইসের সঙ্গে আলোচনা করেন। রিয়ালের চারজন ডিফেন্ডার। সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে আর্সেনালের সেট-পিস কোচ নিকোলাস জোভের রাইসকে বল ক্রস করতে বলছিলেন। কিন্তু সাকা’র সঙ্গে আলোচনা শেষে রাইস নিজেই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাইস বলটিকে ওয়ালের কাছের পাশ ঘুরিয়ে মারেন। অসাধারণ এক কার্লিং শট ছিল সেটি — বলটি অনেক দূর থেকে বাঁক নিয়ে ওয়াল ঘুরে গিয়ে থিবো কোর্তোয়ার গোলমুখে ছুটে আসে। ওয়েস্ট হ্যাম এবং আর্সেনালের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ৩৩৮ ম্যাচে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করতে না পারা রাইস বোকা বানান কোর্তোয়াকে।

 

তবে ৭২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোলটি করেন ডেকলান, তা এক কথায় ছিল অসাধারণ। বক্সের বাইরে ঠিক মাঝবরাবর আবার সাকাকে ফাউল থেকে ফ্রি-কিক। রিয়ালের চারজন দাড়িয়েছিলেন কিছুটা বাম দিকে। ডেকলান কোণাকুনি তুলে দেন দেন বল। বল এতোটাই বাক নিয়েছিল যে, রিয়াল গোলকিপার থিবো কোর্তোয়ার ধারণার বাইরে ছিল। মনে হচ্ছিল বাইরে চলে যাচ্ছে, কিন্তু শেষমুহূর্তে বাক নিয়ে কোণা দিয়ে জালে জড়ায় বল। ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফ্রি-কিক গোল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে গোলটিকে।

ডেকলান রাইস বলছেন, ‘দুটোই ভালো লেগেছে আমার। সবাই বলছে দ্বিতীয়টা নাকি আরও ভালো। আমি বুঝতেই পারিনি বলটা কতটা দূরে ছিল। মার্টিন (ওডেগার্ড) আসলে আমাকে পাস দিতে যাচ্ছিল, কিন্তু [কিলিয়ান] এমবাপ্পে খুব কাছাকাছি ছিল। আমি নিয়মিত অনুশীলন করি, তাই আর ভাবিনি — ভেবেছিলাম, হারানোর কিছু নেই। পা চালিয়ে দিয়েছি। ঢাক পিটিয়ে বলব না, তবে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুইবার গোল করা..'

রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাইস দুবার দুর্দান্ত শট নিয়েছে। প্রথমটা নিয়ে আমি হয়তো একটু দায় নিতে পারি, কারণ আমি সাধারণত ডান পায়ের ফ্রি-কিক হলে এক জন খেলোয়াড়কে বাঁ পাশে রাখি। তাও ওভাবে গোল করেছে, তাই আমার জন্য ভালো শিক্ষা — হয়তো পরেরবার একজন বাড়তি রাখব। দ্বিতীয়টা ছিল একেবারে দুর্দান্ত।'

রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডার ক্লারেন্স সিডর্ফ ব্যাখ্যা করেছেন গোল দুটির, ‘রাইস দারুণভাবে বুঝেছিল পরিস্থিতিটা। ও ফাঁকা জায়গাটা দেখে নিয়েছিল। কুর্তোয়া ভুলভাবে প্রাচীর সাজিয়েছিল—মাত্র চারজন খেলোয়াড় ছিল, জায়গাটা খুব বেশি খালি ছিল। তবে ঠিকঠাক জায়গায় বল মারাটাও কিন্তু সহজ নয়। সেই উপলব্ধি করে এবং সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্য রাইসকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আগের ফ্রি-কিক থেকেই তার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল—যেভাবে ও বলটা রেখেছিল, এমনকি সুপারম্যানও তা বাচাতে পারতো না।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত