ওসির আশ্র্রয়ে ছিলেন ছাত্র হত্যার আসামি

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫৮ এএম

সাভারে বৈষম্যবিরোধী এক ছাত্রকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আসামি আত্মগোপনে ছিল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান থানার ওসির আশ্র্রয়ে। পুরো রমজানে সিরাজদীখান থানার কম্পাউন্ডেই তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। ওসি শাহেদ আল মামুনের কক্ষেই দিনরাতের বেশিরভাগ সময় কাটাত ওই আসামি। থানা প্রাঙ্গণেই ওসির এক ইফতার পার্টিতে আসামির উপস্থিতির ছবি গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আছে।

গত বুধবার বিকেলে সিরাজদীখানে সাভারের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমকে (২৫) হত্যার মামলার আসামি মো. আমির হোসেনকে (৪৮) গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এরপর ওসির ছত্রছায়ায় ওই আসামির থাকার তথ্য উন্মোচিত হয়। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আসামির সঙ্গে ওসির ঘনিষ্ঠতার কথা এখন মানুষের মুখে মুখে।

গ্রেপ্তার আমির সাভার মডেল থানার বেদেরপাড়া গ্রামের প্রয়াত আহেদ আলী মাতবরের ছেলে। জানা গেছে, তিনি সাভার পৌর আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

র‌্যাব-১০-এর মিডিয়া সেলের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান সরদার বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি আমির দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল সিরাজদীখান উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে অভিযান চালায় এবং আমিরকে গ্রেপ্তার করে। তাকে সাভার মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা রয়েছে।’

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাভার মডেল থানার বেদেরপাড়া গ্রামের আমির হোসেন এলাকা ছাড়েন। পরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে আত্মগোপন করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ মার্চ সিরাজদীখান থানায় সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করেন ওসি। আসামি আমির ওই সময় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন। এটাও জানা গেছে, মাসখানেক ধরেই তাকে থানায় ওসির আশপাশে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করতেন।

সিরাজদীখান থানার ওসি শাহেদ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমন কত লোকই আমার আশপাশে থাকে। সবাইকে তো চিনি না।’ ওই আসামির ইফতার পার্টিতে উপস্থিত থাকা ও কক্ষে বসে সময় কাটানোর বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইফতার পার্টিতে অনেকেই এসেছেন। আমার কাছে অনেকেই আসেন, আবার চলে যান।’

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে র‌্যাবকে জিজ্ঞাসা করুন।’ ওসির সঙ্গে আসামির সম্পর্কের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ওসিকেই জিজ্ঞাসা করুন।’

গত বছরের ৫ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে সাভার মডেল থানার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল কাইয়ুম। ওই বছরের ২৫ আগস্ট নিহতের মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত