দেশের পরিত্যক্ত নবজাতকদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে কাজ করছে দেশের ‘ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন’। ইতিমধ্যেই সংগঠনটি ৪১টি পরিত্যক্ত নবজাতককে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছে। এসব নবজাতকদের অনেককে নিঃসন্তান দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ফাউন্ডেশনের কর্ণধার ডা. মো. মুজিবুর রহমান। ব্যক্তি উদ্যোগে কাজ শুরুর পর সমাজের বিশিষ্টজনদের নিয়ে এই ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য দেশে পরিত্যক্ত নবজাতকদের উদ্ধার করা এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা। পাশাপাশি পরিত্যক্ত নবজাতকদের অবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা সংগ্রহে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গীকারাবদ্ধ।
১২ এপ্রিলকে জাতীয় পথ নবজাতক দিবস ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয় সরকারের কাছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি উদ্যোগে ‘নিউবর্ন হাব’ গড়ে তোলা হোক, যেখানে যেকোনো বাবা-মা তাদের জন্ম দেওয়া অনাকাক্সিক্ষত সন্তানকে নিজের নাম-পরিচয় গোপন রেখে সেখানে রেখে যেতে পারেন।
একই সঙ্গে মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে একটি বিশেষায়িত ইউনিট তৈরি করে সেখানে পথ নবজাতক পরিচর্যার সুযোগ তৈরির দাবি জানায় ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন। যেখানে উন্নত এনআইসিইউ সুবিধা, পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স, সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকবে।
ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, পথ নবজাতকদের জন্য হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ চালু করা জরুরি। কেননা নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফেলে যাওয়া নবজাতকদের এ সুবিধা থাকে না। তাই হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক চালু করে সেখানে নিরাপদভাবে সংরক্ষিত বুকের দুধ সরবরাহ করা জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১২ এপ্রিল বিশ্ব পথ নবজাতক দিবস উপলক্ষে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন রাজধানী ঢাকায় এক শোভাযাত্রার আয়োজন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি (অব.) সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হুমায়ুন কবির মঞ্জু এবং ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাহমুদা সুলতানা আসমা উপস্থিত ছিলেন।
