আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাসহ চার ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছিলেন মোহামেডানের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ৪ ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়ে থাকেন ক্রিকেটাররা। একইসঙ্গে তাকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ফলে হৃদয় আছেন তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায়। তবে সেই শাস্তি তুলে নিতে সিসিডিএমের কাছে আপিল করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে শাস্তির মুখে পড়েন হৃদয়।
মোহামেডানের ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন শিপন দেশ রূপান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দোষ স্বীকার করে নিয়েছি। তবে শাস্তিটা বেশি হয়ে গেছে। তাই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আমরা আপিল করেছি। এখনও আমরা সিসিডিএমের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’
তবে দুটি শাস্তির মধ্যে যেটি বড় শাস্তি সেটা গ্রহণ করলেই হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা দুই ম্যাচের বলে জানালেন আম্পায়ার ও টেকনিক্যাল কিমিটির সদস্য অভি আব্দুল্লাহ।
আর আপিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিবির পরিচালক ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো অপরাধী যদি কাউকে খুন করার পর দোষ স্বীকার করে মাফ চায়, তখন কী তাকে মাফ করে দেওয়া যায়? বিচারক সর্বোচ্চ তাকে প্রাণদন্ড না দিয়ে কারাদণ্ড দিতে পারেন। এখানেও বিষয়টি এরকমই। দোষ স্বীকার করলেও যে কোড অব কন্ডাক্ট তিনি লঙ্ঘন করেছেন সেটার শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে।’
ঘটনার সূত্রপাত আবাহনীর ইনিংসের অষ্টম ওভারে। পেসার ইবাদত হোসেনের এক ডেলিভারিতে মোহাম্মদ মিঠুনের প্যাডে আঘাত লাগলে জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন করেন মোহামেডানের ক্রিকেটাররা। তবে সেই আবেদনে সাড়া দেননি অনফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন মোহামেডানের খেলোয়াড়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে অধিনায়ক হৃদয় ছুটে যান তার দিকে। অন্য ক্রিকেটাররাও ঘিরে ধরেন আম্পায়ারকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন লেগ আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। তবে তাকেও ছাড়েননি মোহামেডান ক্রিকেটাররা। হৃদয়কে তার সঙ্গে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন দলের অভিজ্ঞ সদস্য মুশফিকুর রহিম।
এই ঘটনার পর আচরণবিধির লেভেল টু ভাঙার দায়ে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয় তাওহীদ হৃদয়কে। একই সঙ্গে লেভেল ওয়ানের নিয়ম ভাঙায় ইবাদত হোসেনকে করা হয় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা।
তবে হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা যাতে মাঠে নামার পথে বাধা না হয়, সেই চেষ্টায় আছে মোহামেডান। আপিলের সিদ্ধান্ত এখন বিসিবির বিচার কমিটির হাতে।
হেরেও শেষ দল হয়ে সুপার লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ
রিজওয়ানের মন খারাপ করে দিয়ে ভিন্স পেলেন হেয়ার ড্রায়ার