পাহাড়-সমতলে চৈত্রসংক্রান্তি উৎসব

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:০৬ পিএম

আজ বর্ষবরণের দিন পহেলা বৈশাখ। গতকাল রবিবার ছিল চৈত্রের শেষ দিন চৈত্রসংক্রান্তি। পাহাড়-সমতলের বিভিন্ন স্থানে দিনটি ছিল উৎসবমুখর। চাকমা বর্ষবরণের বড় উৎসব ‘বিজু’। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী চৈত্রের শেষ দিনে মূল বিজু পালন করে থাকে। গতকাল রাঙ্গামাটির ঘরে ঘরে চলেছে ৩২ রকমের সবজি দিয়ে রান্না ঐতিহ্যবাহী পাজন আপ্যায়ন।

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চৈত্রসংক্রান্তিতে হয়েছে খনার মেলা। গ্রামীণ সংস্কৃতি ও কৃষিতে খনার বচনের তাৎপর্য তুলে ধরতে গতকাল উপজেলার আঙ্গারোয়া গ্রামে সূর্যোদয়ের সময় মেলার উদ্বোধন করা হয়। মঙ্গলঘর পরিসর আয়োজিত এ মেলায় গানে গানে খনার বচন তুলে ধরা হয়। আজ পহেলা বৈশাখের দিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ হবে।

এদিকে ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। অন্যদিকে চাকমাদের উৎসবের দ্বিতীয় দিন বিজুতে ঘরে ঘরে নানা প্রকার সবজি দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার পাজন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হচ্ছে। মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ থেকে।

খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইং উপলক্ষে গতকাল শোভাযাত্রার বের করা হয়। সকালে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের হয়। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

রাঙ্গামাটিতে ঘরে ঘরে পাজন আপ্যায়ন : চাকমা বর্ষবরণের বড় উৎসব ‘বিজু’। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী চৈত্রের শেষ দিনে মূল বিজু পালন করে থাকে। এ বিজুর মূল উপাদান ‘পাজন’। পাহাড়ি বর্ষবরণের আবহমানকালের বহু ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ হিসেবে চাকমা সংস্কৃতিতে টিকে আছে বিজু উৎসবের এই পাজন রান্না। গতকাল রাঙ্গামাটির ঘরে ঘরে চলছে পাজন আপ্যায়ন।

কমপক্ষে ৩২ রকমের সবজি দিয়ে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী এই ‘পাজন’। যার মধ্যে থাকে কাঁঠাল, কলা, মুলা, মিষ্টি কুমড়া, বেতডগা, তারাসহ বিভিন্ন উপাদান। সঙ্গে থাকে বিভিন্ন প্রকার শুঁটকি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের ধারণা বছরের শেষ বা প্রথম দিনে এ পাজন খাবার খেলে বিভিন্ন প্রকারের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ঐতিহ্যবাহী এ খাবার পাহাড়ি-বাঙালির সবার কাছেই খুবই প্রিয়।

উৎসবের তৃতীয় দিন আজ পহেলা বৈশাখ চাকমা, ত্রিপুরারা গোজ্জ্যাপোজ্জা পালন করলেও ওই দিন মারমা জনগোষ্ঠী উদযাপন করে ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা উৎসব। আগামী ১৯ এপ্রিল রাঙ্গামাটির স্টেডিয়ামে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই পানি খেলার মাধ্যমে শেষ হবে পাহাড়ের বর্ষবিদায় ও বরণ উৎসব।

চৈত্রসংক্রান্তিতে নেত্রকোনায় খনার মেলা : চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় খনার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ সংস্কৃতি ও কৃষিতে খনার বচনের তাৎপর্য তুলে ধরতে গতকাল রবিবার উপজেলার আঙ্গারোয়া গ্রামে সূর্যোদয়ের সময় মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মঙ্গলঘর পরিসর আয়োজিত এ মেলায় গানে গানে খনার বচন তুলে ধরা হয়। আজ পহেলা বৈশাখের দিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ হবে।

আয়োজকরা জানায়, চৈত্রসংক্রান্তির সূর্যোদয় থেকে পহেলা বৈশাখ সূর্য উদয় পর্যন্ত অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকছে গ্রামীণ সংস্কৃতির পালাগান, কবিতা, বাউল গান, কিচ্ছাপালা, গাইন গীতসহ লুকায়িত সংগীতের বিভিন্ন ধারা, শ্লোক, খনার কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জীবন আর জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে বিশেষ আলোচনা।

এ ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে কৃষির নানা উপকরণের প্রদর্শনী ও কৃষকদের মধ্যে দেশীয় বীজের বিনিময় অনুষ্ঠান। পরিবেশের কথা বিবেচনা করে মেলা প্রাঙ্গণে প্লাস্টিক সামগ্রী নিষিদ্ধ করেছেন আয়োজকরা।

সারা দিনরাতব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় গান পরিবেশন করেন প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার, প্রবীণ কৃষক বাউল মিয়া হোসেন, শেফালি গায়েন ও শিল্পী কফিল আহমেদ।

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মিডিয়া কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান কুল এক্সপোজার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসু উৎসব শুরু : ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। অন্যদিকে চাকমাদের উৎসবের দ্বিতীয় দিন বিজুতে ঘরে ঘরে নানা প্রকার সবজি দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার পাজন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হচ্ছে। মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ থেকে।

ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর প্রথম দিনকে বলা হয় হারিবৈসু। এ দিন ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ শিশুরা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘরদোর পরিষ্কার করে, গোসল করে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক-আশাক, গয়না পরিধান করে নদী ছড়া খালে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করে। বাহারী রঙ্গের ফুল, কলাপাতায় সাজিয়ে মোমবাতি, আগরবাতি জ¦ালিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নিবেদন করে। পুরনো বছরকে বিদায় জানায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

এদিকে খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইং উপলক্ষে গতকাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। সকালে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। খাগড়াছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি  শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আপার পেরাছড়া এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সাংগ্রাইং উপলক্ষে  দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত