পবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃতুতে তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০৭ পিএম

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী এইচ এম আশিকের মৃত্যুর ঘটনায় ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের সই করা এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। এতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটিতে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়াকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাওলাদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবুল বাশার খান, মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নিজাম উদ্দিন এবং ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মো. মইন উদ্দিন, নুরে আল ফাহাদ ও মীম সাদাত শাহরিয়ার।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে পবিপ্রবির এইচএম আশিক সহপাঠি বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জনতা কলেজ লেকে গোসলে নেমে অসতর্কতা বশত: ডুবে যায়। এসময় বন্ধুরা তাকে তুলে নিয়ে প্রথমে দুমকি উপজেলা হাসপাতালে ও পরে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রায় ৪০/৪৫মিনিট অপেক্ষার পর ডাক্তার আসায় শুরু থেকেই চিকিৎসায় গাফেলতির অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টায় চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আশিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই রাতেই পবিপ্রবির শতাধিক শিক্ষার্থী হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পরে। এসময় হাসপাতালে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর টানা দেড়ঘন্টায়ও কর্তব্যরত চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি।

আশিকের সহপাঠী মো. সাকিব অভিযোগ করে বলেন, সময় মত চিকিৎসা পেলে আমার বন্ধুর এই মর্মান্তিক মৃত্যু হতো না। চিকিৎসকের গাফিলতির জন্যই এ ঘটনাটি ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব অবহেলায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভের মুখে তদন্ত কমিটি গঠনের মধ্যে দিতে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এদিকে রাত ১০টায় পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নামাজে জানাজা শেষে আশিকের কফিন সড়ক পথে তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার তালুক সুবল গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে তার গ্রামের বাড়িতে ২য় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত