কুমিল্লায় গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১৫ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ফরিদা বেগম (২৪) নামের এক গৃহবধূকে এলোপাথাড়ি মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, ফরিদাকে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলা আদ্রা দক্ষিণ ইউপির কালাচৌ গ্রামের কালাচর গ্রামে বড়িয়া পাড়াই এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা একই গ্রামের দুবাই প্রবাসী সারোয়ার আলমের স্ত্রী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে আদ্রা দক্ষিণ ইউপির কালাচৌ গ্রামের বড়িয়া পাড়ার মৃত. আব্দুর রশীদের ছেলে সারোয়ার আলম সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পানকরা গ্রামের হেদায়েত উল্লাহর মেয়ে ফরিদার বিয়ে হয়। প্রবাসী স্বামী সারোয়ারের সঙ্গে সুখে চলছে তার সংসার। সংসার জীবনে ফয়সাল (৭) ও সাইফা (৪) নামের দুটি সন্তানও রয়েছে তাদের।

তবে কিছুদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাসুর মোস্তফা, মোশাররফ ও শাশুড়ি জমিলা বেগমের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এনিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক বার সালিশ বৈঠক হয়। পরবর্তীতে জীবন রক্ষার্থে থানায়ও একটি লিখিত অভিযোগ করেন ফরিদা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার।

মঙ্গলবার সকালে ফরিদাকে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে ভাসুর মোস্তফা, দেবর মোশারফ হোসেন ও শাশুড়ি জমিলা বেগম মিলে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আহত অবস্থায় তারা ফরিদাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে ওখানকার পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। পরে তারা ফরিদাকে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার চালায়। এই ঘটনার পরপরই ভাসুর, দেবর ও শাশুড়ি পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে নিহতের মা শহিদা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বাসুর, দেবর ও শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে ফরিদাকে প্রায় সময় মারধর করতেন তারা। মঙ্গলবার সকাল ৭ ফরিদা ফোন করে বলেন মা আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। পরে তিনি তাকে শান্ত করে ফোন কেটে দেন। ১০টার দিকে খবর আসে ফরিদা আত্মহত্যা করেছে। দ্রুত গিয়ে শুনি ভাসুর মোস্তফা, দেবর মোশারফ হোসেন ও শাশুড়ি জমিলা বেগম মিলে এলোপাথাড়ি মারধর করে ফরিদাকে হত্যা করে। পরে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার চালায়। তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের সুস্থ বিচারের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে নিহতের ছেলে সাত বছরে শিশু ফয়সাল বলেন, সকালে দাদু, জেঠা ও চাচা মিলে আমার মাকে মারধর করে। পরে তারা মাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে নিয়ে আসলে দেখি মা আর কথা বলে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি একে ফজলুল হক বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। হত্যা না আত্মহত্যা এখন কিছুই বলা যাবে না। এ ঘটনায় অভিযোগের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত