মানবজীবনের নিদারুণ অপচয়

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২৪ এএম

গতকাল রিকশা করে যাচ্ছিলাম। যানজটের মধ্যে উত্তপ্ত এক প্যাডেলচালিত রিকশাওয়ালা একজন ব্যাটারি রিকশাচালককে ঝগড়ার ফাঁকে বলে বসলেন, ‘তোদের মতো রোহিঙ্গাদের কারণে শহরটার এই অবস্থা।’ যিনি ধমক খেলেন, তিনিও কম যান না,  নিজ শ্রেণির অপরজনের প্রতি শ্লেষ আর বিদ্বেষের সুরে বলে উঠলেন, “তুই চুপ থাকা ‘কালা বান্দর’।’’ বলা বাহুল্য, প্রথম ব্যক্তিটির ত্বকের রঙ প্রথমজনের তুলনায় কিছুটা কালো যে ধরনের মানুষের বিবরণ দিতে অনেকেই বলে থাকেন, উনার গায়ের রঙ ময়লা। কৃষ্ণকলি কিংবা প্রেমিকার গায়ের কালো রঙ নিয়ে অনেক কবিতা, গান হলেও পলিটিক্যাল কারেক্টন্যাসের বাইরের সমাজে বর্ণবাদ কখনো কখনো অতি স্থূল হয়ে ধরা দেয়। হাজার মাইল দূরের কালো মানুষদের এক দেশের গল্পে যাই। দুই বছর আগে রমজান মাসে সুদানে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। গত বছরের নভেম্বর নাগাদ শুধু রাজধানী খার্তুমেই প্রাণ হারায় ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এ বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই যুদ্ধের ফলে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালায়। আফ্রিকার এই দেশটির শতকরা ৯০ ভাগ মানুষই মুসলমান এবং গৃহযুদ্ধে বিবদমান দুটি দলের অধিকাংশই মুসলমান। চলতি সপ্তাহে এই যুদ্ধের দুই বছর পূর্তি হলো। এর ক্ষয়ক্ষতি ও হিংসা বেড়েই চলছে। তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে তেমন সাড়াশব্দ নেই। যদিও সপ্তাহখানেক আগেই, দখলদার ইসরায়েলিদের ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে গণহত্যার প্রতিবাদে গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। সন্দেহ নেই, ইসরায়লের এই গণহত্যা চলতি শতাব্দীতে সবচেয়ে বড় মানবতাবিরোধী অপরাধ। কেবল মুসলমানেরাই নয়, গোটা দুনিয়া এই ভয়ংকর অপরাধের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ। ইসরায়লের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, যাদের ক্ষমতার জোরে এই হত্যাকাণ্ড চলছে, সেই মার্কিন মুলুকেও চলছে প্রতিবাদ। ইউরোপ জুড়ে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করছে। কিন্তু এই হত্যাযজ্ঞ থামছেই না। আমাদের শত প্রতিবাদেও ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবন রক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রতি রাতে বিশ্ব মানবতাকে এই অপরাধবোধ নিয়ে ঘুমাতে যেতে হয়। কিন্তু সুদানের মানুষদের জন্য সেই সান্ত্বনাটাও যেন নেই। একে তো গৃহযুদ্ধ, দ্বিতীয়ত আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশ, যেই মহাদেশ ঐতিহাসিকভাবে চরম নিপীড়ন এবং জঘন্যরকম বর্ণবাদের শিকার। কালো মানুষদের শতাব্দীর পর শতাব্দী দাস বানিয়ে রাখা ইউরোপীয়রা তো বটেই, এমনকি আমাদের মতো বাদামি চামড়ার মানুষেরাও, যারা দীর্ঘদিন নিজেরাই ঔপনিবেশিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিলাম, তারাও যেন অনেকটা উদাসীন। এর একটা কারণ হতে পারে আমাদের সঙ্গে মহাদেশটির ভৌগোলিক দূরত্ব। আরেকটা কারণ হতে পারে বিশ্ব মিডিয়ায় তুলনামূলক কম আলোচনা এবং অস্বস্তিকর শোনালেও, এর পেছনে হয়তো কাজ করতে পারে আমাদের বর্ণবাদ।

বর্ণবাদ কেবল গায়ের রঙ দিয়েই মাপা যায় না, দুই রিকশাচালকের ঝগড়ায় যে সমাজচিত্র উঠে আসে, তাতে দেখা যায় যে, কালো মানুষদের মতো আমাদের দেশে ‘রোহিঙ্গা’ একটি গালিতে পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের মতো গণহত্যার স্বীকার, সুদানিদের মতো দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই মানুষগুলো এই দেশে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও মানুষ হিসেবে সম্মান পাওয়া থেকে তারা অনেক দূরে। বিশ্ব মানবতাকে লজ্জা দিয়ে, আশ্রয় শিবিরের অমানবিক পরিবেশে তাদের বাস। ‘রোহিঙ্গা’ সম্প্রদায় হচ্ছে, মিয়ানমার রাষ্ট্রের উত্তর রাখাইন প্রদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী। কয়েকশ বছর আগে, রোহিঙ্গাদের বাসস্থান ছিল রাখাইন প্রদেশে। ১৯৮২ সালে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইনে, রোহিঙ্গাদের বঞ্চিত করা হয়। যে কারণে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একদিকে রোহিঙ্গারা হচ্ছে উদ্বাস্তু, অন্যদিকে রাষ্ট্রহীন। ১৪০৪ সালে আরাকান রাজা নিজের রাজ্য থেকে পালিয়ে সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী গৌড়ে আশ্রয় নেন। এরপর ১৮৭৫ সালে আরাকান রাজ্য বার্মার রাজা অধিগ্রহণ করার পর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অধিকাংশ উদ্বাস্তু আরাকান থেকে বাংলায় অনুপ্রবেশ করে। কিন্তু ১৯৭৮ সালে বার্মা সেনা ২ লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে উত্তর আরাকান থেকে বিতাড়িত করে। তখন তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে বার্মা এবং বাংলাদেশ সরকারের আলোচনার পর ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৫০ জন উদ্বাস্তু বার্মায় ফিরে যায়। ১৯৯১-৯২ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর আবার নির্যাতন শুরু হয়। তখন প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মমতম অত্যাচার নেমে আসে ২০১৭ সালে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা ঢল শুরু হয়েছিল। এরপর কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়। আগে থেকেই সেই এলাকার ক্যাম্পে বসবাস করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর থেকে কক্সবাজার ও উখিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বাঁশ আর প্লাস্টিকের খুপরি ঘরে বসবাস শুরু করে রোহিঙ্গারা। উখিয়ার কুতুপালং পরিণত হয় বিশে^র সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে।  কেমন আছেন রোহিঙ্গারা? উন্নত দেশের একটি কারাগার প্রকোষ্ঠে যতটুকু জায়গা থাকে একজন আসামির জন্য, সেইটুকু জায়গায় দুটি রোহিঙ্গা পরিবার বসবাস করে, যাদের সদস্য সংখ্যা সাধারণত ছয়জনের কম হয় না। আমরা পশ্চিমা সিনেমায় দেখি যে, কয়েদিদের জন্য সাধারণত খাট থাকে আর এককোনায় স্যানিটেশনের ব্যবস্থা, তবে রোহিঙ্গাদের জন্য দ্বিতীয়টা রীতিমতো দুঃসাধ্য। ছেলে-বুড়ো, নারী নির্বিশেষে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গণশৌচাগারই একমাত্র উপায়। বলা বাহুল্য, প্রাইভেসি বলতে তেমন কিছু উনাদের জীবনে নেই। যাদের মাসিক রেশন মাসে বারো ডলার অর্থাৎ, তিনবেলা খাবারের হিসাব করলে গড়ে ১৬ টাকা। কপাল ভালো, এই লেখার সময় ধূমপান করছি না। না হয়, বিশ টাকার একটি বেনসন সিগারেট পোড়ানোর সময় মধ্যবিত্তসুলভ স্বল্পায়ু মানবিকতার ধাক্কায় তা চরম বিস্বাদ হয়ে পরার সুযোগ ছিল। প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বমানবতার দরদ উপচে পড়েছিল। তখনো ইউরোপে রাশিয়া আর ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরু হয়নি, হামাসের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার নামে পুরো ফিলিস্তিনকে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়ার জঘন্য কার্যক্রম পুরো মাত্রায় শুরু হয়নি। ফলে এনজিওসহ নানাদিক থেকে শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ আসতে থাকে। দেশ-বিদেশের উন্নয়নকর্মীরা কক্সবাজার এলাকায় ভিড় জমায়। তৎকালীন সরকার ভারত ও চীন এই দুই পরাশক্তির শুম্ভ-নিশুম্ভের লড়াইয়ে কাউকেও চটাতে চায়নি বিধায়, এই মানুষগুলোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে অনেকটাই বাধ্য হয়। একদিকে মানবতার ডাকে সাড়া দিতে পারার তৃপ্তি, অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘রিলিফ ইকোনমি’ তৈরি হওয়ায় বেশিরভাগ বাংলাদেশি এই ব্যবস্থা মেনে নেয়। আর যেহেতু রোহিঙ্গারা মূলত মুসলমান, ফলে সেই সহানুভূতিও তারা স্থানীয়সহ দেশবাসীদের কাছে পেতে থাকেন। দিন দিন অবস্থা এত মধুর থাকে না।

বিপুল পরিমাণ মানুষের চাপে স্থানীয় অর্থনীতিতে সমস্যা দেখা যায়। যদিও রোহিঙ্গাদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল না, কিন্তু অতি সস্তায় এসব হতভাগ্য মানুষকে শ্রমিকের কাজে লাগায় অনেকে। ফলে স্থানীয়দের মজুরির নিম্নমুখী চাপ দেখা যায়। দুনিয়ার অন্যান্য প্রান্তে যেমন স্থানীয় ও অভিবাসী শ্রমিক শ্রেণির মানুষদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায় তা প্রকট হতে থাকে। পরিবেশের ওপর বাজে রকম প্রভাব পড়তে থাকে। রিলিফ ইকোনমির প্রভাবে দ্রব্যমূল্যসহ জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। তবে এর দায় কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের নয়। দিন দিন বিশ্বমানবতার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে গিয়ে তাদের জীবন আর বেশি মানবেতর হয়ে পড়ে। খাওয়া আর বাসস্থানের মতো সবচেয়ে মৌলিক দুটি ব্যাপার তো বলাই হলো, চিকিৎসাও তাদের জন্য আওতার বাইরে। রাজনৈতিক চাপে শরণার্থী শিবির নামক বিশাল এক জেলখানায় দুর্বিষহ জীবন কাটানোই তাদের নিয়তি হয়ে গেছে। মানবজীবনের কী নিদারুণ অপচয়! কী অভাবনীয় অমানবিক জীবন। যে শতাব্দীতে এসে মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড়াই করছে, মহাকাশ জয় করতে চাইছে, সে সময় কিছু মানুষ শুধু রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে, মানুষ হওয়ার ন্যূনতম সম্মানটা পাচ্ছে না। এমনকি এমনও হয়েছে যে, অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে দু-একজন ভুয়া পরিচয় দিয়ে স্কুল-কলেজে পড়তে গেছে, কিন্তু সেখান থেকে ‘ধরা’ পড়ে অপমানিত হয়েছে। কেউ কেউ হয়তো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপসহ উন্নত দেশে পালিয়েছে, আবার যারা এখনো ‘ধরা’ পড়েনি তাদেরও সদা আশঙ্কা কখন সব শেষ হয়ে যায়। আবার হয়তো শরণার্থী শিবিরে ফিরে যেতে হয়। এমনকি এ দেশের মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে, গণতন্ত্রের লড়াইয়ে শহীদ হয়েও সেই স্বীকৃতি মেলেনি নুরুল মোস্তফার। কারণ, এ দেশে জন্ম নিলেও, সে একজন রোহিঙ্গা। শুধু যে বিশ্বমানবতার আগ্রহই ফিকে হয়ে গেছে তাই না, যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে অবস্থা আরও জটিল হচ্ছে। আরাকান বিদ্রোহীরা বিভিন্ন এলাকা দখল করছে, সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ আরও বেশি তীব্র হচ্ছে। এই অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কাদের সঙ্গে আলোচনা হবে? ওদের ফিরিয়ে নেওয়ার নাম করে মানব কামানের গোলা হিসেবে যুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না তো? অবশ্য রোহিঙ্গাদের যে জীবন, তাতে অনেকে হয়তো তাও শ্রেয় ভাববে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস অত্যন্ত দরদ সহকারে এই মানুষগুলোর কাছে গেছেন, সঙ্গে ছিলেন জাতিসংঘের প্রধান। দুই অত্যন্ত প্রভাবশালী মানুষ রোহিঙ্গাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তাদের নিজভূমে ফিরিয়ে দেওয়ার। মিয়ানমার  ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরানোর কথা উল্লেখ করেছে। বলা হয়েছে, মিয়ানমার কর্র্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকা থেকে তারা ১ লাখ  ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি রোহিঙ্গাদের ফেরানোর ক্ষেত্রে প্রথম এ ধরনের নিশ্চিত তালিকা, যা রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান শোয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানকে এই তথ্য জানিয়েছেন। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিই মনে হচ্ছে। সরকারের উচ্চপদস্থরা তা স্বীকারও করেছেন। রিকশাওয়ালার জীবন তেমন সম্মানের না। এদেশের মধ্যবিত্তদের কাছে রিকশাওয়ালা শব্দটা গালির মতোই। পরীক্ষায় ফেল করলে ছেলেদের রিকশা চালানো পেশায় নামিয়ে দেওয়া আর মেয়েদের রিকশাওয়ালার সঙ্গে বিয়ে দিতে চাওয়ার স্থূল রসিকতায় লুকিয়ে থাকে তীব্র জাতঘৃণা। অথচ সেই রিকশাওয়ালাও অবদমিত শ্রেণিঘৃণা প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের। কী দুঃসহ তাদের জীবন।

লেখক: সাংবাদিক ও অনুবাদক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত