মুর্শিদাবাদে সহিংসতা

বাংলাদেশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ভারতের

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

ভারতে ওয়াকফ আইন সংশোধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব যে নিন্দা জানিয়েছেন, তার সমালোচনা করেছে ভারত। একই সঙ্গে প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সে দেশের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। গতকালই সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ওই মন্তব্য তুলে ধরা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, রণধীর জয়সোয়াল বলেন, অনভিপ্রেত মন্তব্য না দিয়ে বাংলাদেশ বরং নিজেদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় মনোযোগ দিক। তিনি বলেন, ‘আমরা পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নিপীড়ন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের সঙ্গে তুলনা টানার বিষয়টি প্রায় প্রকাশ্য ও কপট অপচেষ্টা। সংখ্যালঘু নির্যাতনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনো সেখানে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’ রণধীর জয়সোয়াল আরও বলেন, ‘অনভিপ্রেত মন্তব্য না করে এবং নৈতিকতার আশ্রয় না নিয়ে বাংলাদেশ বরং নিজেদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় মনোযোগী হোক।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়ানোর চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘মুর্শিদাবাদের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বাংলাদেশকে জড়ানোর যেকোনো চেষ্টাকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। বাংলাদেশ সরকার মুসলিমদের ওপর হামলা এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তাহানির ঘটনার নিন্দা জানায়।’

এর প্রতিক্রিয়ায় রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ওই মন্তব্য ভারতের উদ্বেগের সঙ্গে তুলনা টানার একপ্রকার অসৎ ও প্রচ্ছন্ন চেষ্টা, যেখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নিপীড়নের ঘটনায় অপরাধীরা এখনো অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এনডিটিভি লিখেছে, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থানা এলাকায় ৪ এপ্রিল শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল; কিন্তু ৮ এপ্রিল উমরপুরে পাঁচ হাজার জনতা মহাসড়ক অবরোধ করলে তা সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশের ওপর ইট, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি গাড়িকেও নিশানা করা হয়। ১১ এপ্রিল সুতি ও সমশেরগঞ্জে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিক উভয়কে রক্ষা করতেই সুতির সাজুর মোড়ে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ।১১ ও ১২ এপ্রিল ওই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, হামলা ও ভাঙচুর মিলিয়ে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই সহিংসতার ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জুড়ে এখনো পর্যন্ত ২৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত