হিলি

দুস্থদের ১৮ টন চাল প্যানেল চেয়ারম্যানের পেটে! 

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩৪ পিএম

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে ছদরুল শামীম স্বপন নামে এক প্যানেল ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসহায় দুস্থ মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির নাম দিয়ে তালিকা করে ১৮ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। তালিকায় নাম থাকার পরেও চাল না পাওয়ায় এমন অভিযোগ করেন তারা।

জানা গেছে, হিলির খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গত ১৬ মার্চ ঈদ উপহার হিসেবে ইউনিয়নের ৪ হাজার ১৬৯ জন গরীব অসহায় দুস্থদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। তালিকায় নাম থাকার পরেও অনেকে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চাল না পেয়ে ফিরে আসেন। আবার অনেকের নাম থাকলেও তারা জানে না এমনকি তাদের নামের চাল উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় একজনের নাম একাধিকবার, এক ওয়ার্ডের নাম অন্য ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত ও মৃত ব্যক্তির নামে ১৮০০ জনে ১৮ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এই কাজে শাহানুর রহমান, আবুল কাশেম ও জাহাঙ্গীর আলম নামের তিন ইউপি সদস্য জড়িত বলে ৯ এপ্রিল লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাল না পাওয়া মেরিনা খাতুন বলেন, আমরা গরীব মানুষ; ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ছিল। তালিকায় আমার নাম রয়েছে তারপরেও সেই চাল দেয়নি।

ইজিবাইক চালক শামীম রেজা বলেন, যেদিন চাল বিতরণ হয় সেদিন আমি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছি; তারা বলছে আমার নাম নেই। অথচ তালিকায় আমার নাম রয়েছে; নাম থাকার পরেও আমি সেই চাল পাইনি।

লিখিত অভিযোগকারী সাইমুমুর রহমান ডলার বলেন, অনেকেই আমাদের বলে তালিকায় নাম থাকার পরেও তারা কেউ চাল পায়নি। সেই বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করি চাল বিতরণের তালিকা নেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি তালিকা দিতে রাজী হননি। কয়েকদফা ঘুরার পর ঈদের বন্ধের আগের দিন অনেক জোরালো দাবির পর তালিকা দেন। তালিকা নেওয়ার পর প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে দেখতে পাই তালিকায় অনেকের নাম আছে তারপরেও চাল পায়নি। আবার একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ১৮০০ জনের ভুয়া নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ১৮ টন চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপন বলেন, চাল বিতরণের একমাস অতিবাহিত হওয়ার পর আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ও আমার সম্মানহানি করতেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। যেদিন চাল বিতরণ করি সেদিনে ইউএনও স্যারের প্রতিনিধি, সব ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের সবার উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তালিকায় নাম থাকার পরেও চাল পায়নি ও মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকার বিষয়টি সঠিক নয় বলেও দাবি তার।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপনের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তালিকায় থাকার পরেও কেউ কেউ ভিজিএফের চাল পায়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য পিআইওকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে সেই সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত