গ্রামবাংলায় খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩৫ এএম

‘... সে কাল আর নাই। কালের অনেক পরিবর্তন ঘটিয়াছে। মাঠের বুক চিড়িয়া রেললাইন পড়িয়াছে। তাহার পাশে টেলিগ্রাফ তারের খুঁটির সারি। বিদ্যুৎ-শক্তিবহ তারের লাইন। মেঠোপথ পাকা হইয়াছে। তাহার ওপর দিয়া ঊর্ধ্বশাসে মোটর বাস ছুটিতেছে। নদী বাঁধিয়া খাল কাটা হইয়াছে। লোকে হুঁক্কা ছাড়িয়া বিড়ি-সিগারেট ধরিয়াছে। কাঁধে গামছা, পরনে খাটো কাপড়ের বদলে বড় বড় ছোকরারা জামা, লম্বা কাপড় পরিয়া সভ্য হইয়াছে। ছ-আনা, দশ-আনা ফ্যাশনে চুল ছাঁটিয়াছে। ভদ্রগৃহস্থ ঘরের হাল-চাল বদলাইয়াছে। ‘(তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়,‘রাইকমল’)।’ আসলে তো তাই। সব কিছুর পরিবর্তন ঘটছে যেমনি গ্রামের তেমনি গ্রামে বাস করা মানুষগুলোর জীবন-জীবিকার। এক সময় কৃষি ছিল গরিবের জীবিকার প্রধান উৎস আর কৃষি বলতে অন্যের জমিতে ফসল উৎপাদনে শ্রম দেওয়া, তাও আবার একটা ফসলে। বছরের বাকি সময়ে যুৎসই কর্মসংস্থানের অভাবে আধাপেটে কিংবা না খেয়ে থাকা । কিন্তু এখন মাঠের বুকে চিড়ে ট্রেন চলা মেঠোপথ পাকা হওয়ার ফলে ঊর্ধ্বশ্বাসে বিদ্যুৎ-শক্তিবহ তার কল্যাণে আধুনিক জ্বালানিতে প্রবেশ ইত্যাদি প্রমাণ করে যে, গ্রাম কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। পণ্য ও উপকরণ বাণিজ্যে বিনিময় দ্রুততর হচ্ছে, গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও কাজের সন্ধানে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। পুরো অবকাঠামোগত সুবিধা কৃষি থেকে অ-কৃষি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে চলছে। ইদানীং দেখা যায়- কৃষি কাজের বাইরের খামারের বাইরে ঘটা অকৃষিজ কর্মকা- জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে গরিবের সামনে উপস্থিত। শুধু পুরুষ নয়, এমন কি গরিব মহিলারাও এসব কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করে আয় বৃদ্ধিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। তবে স্বীকার করতেই হবে যে, গরিব-বান্ধব অকৃষিজ কর্মকান্ড বিস্তৃতির পেছনে বড় অবদান রেখেছে একদিকে সবুজ বিপ্লব এবং গড়ে ওঠা গ্রামীণ অবকাঠামো। ফলে গ্রামীণ সমাজে আয় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভোগ ও পরিধানে পরিবর্তন ঘটছে, যা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

দুই. ইতিমধ্যে অনেক পণ্ডিত গ্রামাঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনকুশলতায় খামার-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ভূমিকা নিয়ে বেশ চমকপ্রদ বিশ্লেষণ করেছেন। অতি সম্প্রতি সমাপ্ত গবেষণাগুলোতে এসব কর্মকাণ্ডকে পল্লী উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, গ্রামীণ খানার মোট আয়ের প্রায় ২৫-৫০ ভাগ এ খাত থেকে  উৎসারিত হয় এবং এই খাতেই আবার গ্রামের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ২০-৪০ ভাগ সংঘটিত হয়। তার চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ অকৃষিতে কর্মকাণ্ড গ্রামের মহিলা ও ভূমিহীন দরিদ্রের জন্য জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস এবং সেহেতু এদেশ বিস্তৃতি আশীর্বাদস্বরূপ। এক গবেষণা প্রবন্ধ খুব সুন্দরভাবে খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে এবং আমরা তা পাঠকের জন্য তুলে ধরতে পারি : অর্থনৈতিক রূপান্তরের সময় গ্রামাঞ্চলে খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের আবির্ভাব এবং দ্রুত বিস্তৃতি আর্থ ও কর্মসংস্থানের একটা প্রধান উৎস হিসেবে দাঁড়ায়। উন্নয়নের প্রথম দিকে একটা ছোট খাত থাকে, যা প্রায়ই প্রধানত খণ্ডকালীন এবং জীবন নির্বাহমুখী। ধীরে ধীরে অকৃষি অর্থনীতি শুধু গ্রামাঞ্চলের জন্য নয় বরং পুরো অর্থনীতির জন্য হয়ে উঠে প্রবৃদ্ধির চালকযন্ত্র। মহিলা ও দরিদ্রদের কল্যাণের প্রেক্ষিতে এর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং কখনো কখনো কৃষি খাত থেকে জন্ম নেওয়া বৈষম্য পরিস্থিতিতে সমতা বিধান করে। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকে কৃষির চাইতে কৃষিবহির্ভূত বা অকৃষিজাত কর্মকাণ্ড থেকে উৎসারিত আয়ের প্রবৃদ্ধির হার ছিল বেশি। যার ফলে গ্রামের দরিদ্র শ্রেণি অকৃষি কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে গড়পড়তা আয় বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়। অন্যদিকে গরিব শ্রমিক শ্রেণি গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার ফলে কৃষিতে মজুরি হারের বৃদ্ধি পেতে থাকে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে, বিস্তৃত অকৃষিজাত কর্মকাণ্ডকে দরিদ্র-বান্ধব বা দরিদ্রমুখী বলে চিহ্নিত করা চলে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সামনেও ক্রমবর্ধিষ্ণু শ্রমশক্তির জন্য উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এক দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জ। দ্রুত গ্রাম-নগর অভিবাসন সত্ত্বেও কর্মবয়সী জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ শ্রম বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে এবং তাদের সিংহভাগ গ্রামেই অবস্থান করছে। তবে গ্রামে বাস করলেও এ বর্ধিষ্ণু শ্রমশক্তিকে কৃষি খাতে নিয়োজিত রাখার বেশ কিছু সমস্যা আছে। এর প্রধান কারণ হতে পারে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করার কোনো সুযোগ তো নেই, বরং প্রতি বছরই নানা চাহিদার বাহানায় চাষযোগ্য জমি কমছে। দ্বিতীয়ত, বেশিরভাগ অঞ্চলেই শস্য নিবিড়তা সূচক প্রায় ২০০ শতাংশের বেশি এবং তা প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। তৃতীয়ত, শস্য উৎপাদন এখন প্রযুক্তিনির্ভর, এর ফলে  যে মাত্রায় উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ঠিক সেই মাত্রায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় না (কর্মসংস্থানে উৎপাদনের স্থিতিস্থাপকতা অপেক্ষাকৃত কম)। অর্থাৎ জমির উৎপাদন শক্তি যত বাড়ছে, ততই শ্রমিক কম লাগছে। সবশেষে, অতীতের সব উন্নয়ন সত্ত্বেও শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অবকাশ এখনো আছে, যেমন আছে যান্ত্রিক চাষাবাদ গ্রহণ করে একক প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধির।

তিন. বর্তমান লেখায় আমরা অকৃষি খাতের একটা সীমিত সংজ্ঞা ব্যবহার করেছি, যেখানে কৃষিবহির্ভূত কর্মকা-ের মধ্যে গবাদিপশু, মাছ চাষ ও বন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে পুঁজি লগ্নির প্রকৃতির নিরিখে আমরা তিন ধরনের কাজ চিহ্নিত করতে পারি যথা : (ক) স্ব-নিয়োজিত জীবননির্বাহমুখী কুটির শিল্প, গ্রামীণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে মজুরি কর্মসংস্থান, পরিবহন পরিচালন, নির্মাণ শ্রম ইত্যাদি। স্মর্তব্য, এগুলো মূলত দৈহিক শ্রমনির্ভর কর্মকাণ্ড; (খ) বেতনভুক্ত শিক্ষক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় কর্মচারী, ডাক্তার, ইমাম এবং অন্যান্য সেবা কাজে নিয়োজিত শ্রমিক, যাদের প্রদত্ত শ্রমকে এক্ষেত্রে মানব পুঁজি হিসেবে চিহ্নিত করা যায় এবং (গ) বাণিজ্যভিত্তিক গ্রামীণ শিল্প খাতে অন্তর্ভুক্ত থাকছে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, দোকান, ছোটখাটো ব্যবসা, বড় ও মাঝারি ব্যবসা, ঠিকাদারি ইত্যাদি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এ কাজগুলো সাধারণত দৈহিক ও মানব পুঁজিনির্ভর। প্রথমেই খানাগুলোর প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পেশা এবং খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এদের সম্পৃক্ততার তথ্য উপস্থাপন করা যেতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, অধুনা খানাগুলোর সিংহভাগ ভাগ উপার্জনকারী সদস্য খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে প্রাথমিক পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং আরও কিছু সংখ্যক উল্লেখ করেছে দ্বিতীয় পেশা হিসেবে। অতীতের তুলনায় এ অনুপাত নিঃসন্দেহে বেশি। সুতরাং পরিসংখ্যান বলে দেয় যে জীবিকা নির্বাহের জন্য উপার্জনকারীদের একটা বড় অংশ অকৃষিজ কর্মকাণ্ড বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে প্রায় ৭০-৭৫ ভাগ  উপার্জনকারীর প্রাথমিক এবং দ্বিতীয় পেশা হিসেবে খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ভূমিকা রাখছে। শুধু তাই নয়, পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে যেমন এদের গুরুত্ব বাড়ছে, তেমনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাড়ছে এদের অবদান।

জানা যায়, সময়ের বিবর্তনে গ্রামীণ খানার আয় বেড়েছে  সন্তোষজনকভাবে। তবে বর্ধিষ্ণু আয়ের সিংহভাগ এসেছে অকৃষিজাত কর্মকাণ্ড থেকে। অথচ একই সময়ে কৃষি থেকে পাওয়া আয়ের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে খুব কম মাত্রায়। বুঝতে কষ্ট হয় না যে, খানার আয় সংঘটনে কৃষির অবদান ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে এবং অকৃষিজাত কর্মকাণ্ডের অংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের এ পর্যবেক্ষণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক পরিচালিত এক সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, গ্রামীণ খামারবহির্ভূত অর্থনীতি এশিয়ার গ্রামীণ আয়ের ২৫-৫০ ভাগ অবদান রাখে এবং বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে খানার মোট আয়ের একটা বড় অংশের উৎস খামারবহির্ভূত কাজ। এমনকি গ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষ তাদের আয়ের ৪০-৫০ ভাগ অর্জন করে অকৃষিজাত কর্মকাণ্ড থেকে। যদি মোট জিডিপিতে অংশ হিসেব করা যায়, তা হলে দেখা যায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অবদান নিয়ে কৃষির চেয়ে খামারবহির্ভূত খাত এগিয়ে আছে। তা ছাড়া এটা খুবই স্বাভাবিক যে, বর্ধিত গ্রামীণ আয় বৃদ্ধির কারণে তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে ফসলবহির্ভূত খাবার ও সেবামূলক পণ্যের চাহিদা। যেহেতু এসব খাদ্য ও সেবা দ্রব্যের আয় স্থিতিস্থাপকতা বেশি (এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে গ্রামাঞ্চলের স্থিতিস্থাপকতা শহরের চেয়ে অধিক), তাই অকৃষিজাত কর্মকাণ্ড থেকে উৎসারিত আয়ের সংযোগ প্রতিক্রিয়ার মাত্রা অনুমান করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়।

চার. শুধু আয় সংঘটনে নয়, গ্রামাঞ্চলের খানাগুলোর পুঁজি সঞ্চয়নেও খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা আজ সুবিদিত এবং এ প্রবণতা গরিব বা সচ্ছল সবার ক্ষেত্রেই মাত্রাভেদে প্রযোজ্য। যেমন অতীতে গ্রামীণ গৃহস্থালিতে পুঁজি বলতে লাঙ্গল, নৌকা, মই, জাল ইত্যাদি অর্থাৎ পুঁজির বেশিরভাগ ছিল কৃষিকেন্দ্রিক। ইদানীং কৃষি পুঁজির অংশ হ্রাস পায়, কিন্তু খামার বহির্ভূত বা অকৃষিজাত কর্মকাণ্ড দাবি করে মোট পুঁজির প্রায় ৭০ শতাংশ । অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, অতীতে যেখানে খানা প্রতি পুঁজি লগ্নির পরিমাণ ছিল ২৫০ ডলার, এখন তা দাঁড়ায় ১৩০০ ডলারে। উপস্থাপিত তথ্য বোধ হয় বলে দেয় যে, খানা উৎসারিত পুঁজির সর্বাধিক ব্যবহার ঘটেছে খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে। এর কারণ সম্ভবত এই যে, খানার মোট আয়ের সিংহভাগ আসে অকৃষিজাত কর্মকাণ্ড থেকে এবং এই আয় সংঘটন খানাগুলোকে বর্ধিত হারে পুঁজি বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে। সময়ের বিবর্তনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, খামার এবং খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের মধ্যে চলিষ্ণুতা বা গতিময়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ শ্রমিক মূলত খামার থেকে খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে যাচ্ছে বেশি, উল্টো দিক থেকে যাচ্ছে কম। দেখা  গেছে, যারা জমি চাষ করে তাদের অনুপাত ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং সময়ের বিবর্তনে কৃষি শ্রমিকের অনুপাত প্রায় অর্ধেক হয়ে এসেছে। অন্যদিকে খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে রিকশা/ভ্যান চালনা এবং স্ব-নিয়োজিত কারিগরি কর্মকাণ্ড। এ পর্যবেক্ষণ দেখায় যে গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাটের বিস্তৃতি, শ্যালো মেশিন এবং পাওয়ার টিলারের আবির্ভাব ইত্যাদি গ্রামীণ অঞ্চলে বর্ধিত হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে চলেছে। তা ছাড়া সেবামূলক কাজে (যেমন চাকরি) নিয়োজিত ছিল মোট উপার্জনকারীর এক পঞ্চমাংশ, অতীতের ১৩ ভাগের তুলনায়। মোটামুটিভাবে, তুলনীয় সময়ে বেকারত্বের হার কমেছে এবং বলা বাহুল্য, খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ব্যাপক বিস্তার বেকারত্ব ঘুচাতে সাহায্য করেছে।

পাঁচ. গ্রামীণ খামারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করে দারিদ্র্য হ্রাস তথা গ্রাম উন্নয়ন ঘটাতে হলে, গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণ চাই। এ জন্য দরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাঝে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তার আগে দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন, যা প্রধান প্রতিবন্ধক।

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক, সাবেক উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত